Showing posts with label প্রবন্ধ. Show all posts
Showing posts with label প্রবন্ধ. Show all posts

Wednesday, November 15, 2017

কুর’আনের অর্থ না বুঝার কারণে আপনি প্রতিদিন যে ১০টি জিনিস হারাচ্ছেন !

১-কুর’আন নাযিলের উদ্দেশ্য বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন !

আপনি যদি কুর’আনের অর্থ না বুঝেই কেবল উচ্চারণ করে পড়তে থাকেন, তাহলে কুর’আন নাযিলের মূল উদ্দেশ্য হারিয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন,
“এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসূহ লক্ষ্য করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে”। সূরা সা’দ ২৯
কিভাবে এই উদ্দেশ্য আমাদের দ্বারা বাস্তবায়িত হবে যদি আমরা কুর’আন কি বলছে তা বুঝতে না পারি!
কোন ব্যক্তির পক্ষে কি সর্বদা অনুবাদ বহন করা সম্ভব, কিংবা সালাতে যখন কুর’আন তিলাওয়াত করা হয় তখন কি আমাদের পক্ষে কুর’আনের অনুবাদ বহন করা সম্ভব?.



২- আপনার মন হতে পারতো একটি সজ্জিত উদ্যান !


আমাদের মন যেন একটি সজ্জিত উদ্যান। আর সেই উদ্যানে যদি আমরা কোন গাছ না লাগাই, তাহলে সেখানে জন্মাবে আগাছা। এমনকি যদি আমরা ফুলের গাছ লাগাই, কিন্তু পরিচর্যা না করি তাহলেও সেখানে আগাছা জন্মাতে থাকবে। আমাদেরকে সর্বদাই আগাছা পরিষ্কার করতে হবে, কেবল তখনই আমরা আমাদের উদ্যানের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারব।
মনের ফুল হচ্ছে হেদায়াত,আল্লাহর বাণী,আল্লাহর দেখানো পথ, আর আগাছা হচ্ছে শয়তানের ওয়াসওয়াসা, কুচিন্তাসমূহ। প্রতিবার যখন আমরা কুর’আন তিলাওয়াত শুনি সালাতে কিংবা অন্যত্র তখন আমাদের মনে একটি ভালো অনুভূতি জন্ম নেয়, আমরা যদি সেই আয়াতসমূহের প্রতি মনোযোগ না দেই, কি বলা হচ্ছে তা বুঝার চেষ্টা না করি, আল্লাহর আয়াত-নিদর্শন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা না করি তাহলে তা হবে ফুল গাছ লাগানো বাগানে পানি না দেওয়ার মত, সেখানে জন্মাবে আগাছা আর সেই উদ্যান নষ্ট হয়ে যাবে।

৩- আপনি হারাচ্ছেন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য !

কুর’আন পাঠের পাঁচটি উদ্দেশ্য হতে পারে
১) আল্লাহর কাছ থেকে উপদেশ গ্রহণ
২) ইলম অর্জন
৩) আল্লাহ যা করতে বলছেন তা বাস্তবায়িত করা
৪) আমাদের মন ও অন্তরের আরোগ্য-শিফা
৫) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সাথে কথোপকথন .
অর্থ না বুঝার কারণে আপনি এ সকল উদ্দেশ্য থেকে উপকার লাভ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

৪-আপনি হারাচ্ছেন রুগ্ন ও ব্যধিগ্রস্ত অন্তর থেকে আরোগ্য লাভের সুযোগ !

আমরা সবাই জানি ফযরের সালাত আদায় করা ফরয। কিন্তু এরপরেও খুব অল্প কিছু মানুষ মসজিদের জামাতে অংশ নিতে সক্ষম হয়। কিন্তু কেন? এমন নয় যে, তারা এ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়, মূল কারণ হচ্ছে আমাদের অন্তর রুগ্ন ও ব্যধিগ্রস্ত, মরিচা ধরা ।
অধিকাংশ লোকের একটি ভুল ধারণা হচ্ছে, কুর’আন শুধুমাত্র একটি আদেশ-নিষেধের কিতাব।
কি করা যাবে, আর কি করা যাবে না ; সে বিষয়ের কিতাব।
অথচ বিধি-নিষেধের আলোচনা করা হয়েছে এমন আয়াতের সংখ্যা মোট আয়াতের শতকরা ১০ ভাগেরও কম !
বাকি ৯০ ভাগেরও বেশি আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে এমন বিষয় সম্পর্কে যা আমাদের মন ও মস্তিষ্কের খোরাক, এগুলো আমাদের মনকে সতেজ ও পুষ্ট রাখে। আমাদের অন্তর দুর্বল ও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে আমাদের পাপের কারণে। কাজেই এই মরিচা পড়া অন্তরে ঘষা মাজা এবং মজবুত করতে চাই কুর’আন।
আদম আলাইহি সালাম কে নিষেধ করা হয়েছিল তিনি যেন নিষিদ্ধ গাছের নিকটবর্তী না হন। আল্লাহ বলেন, “আমি ইতিপূর্বে আদমকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে দৃঢ়তা পাইনি”। ত্বহা ১১৫ । আমরা মানুষ, আর আমাদের রয়েছে নানাবিধ দুর্বলতা। আমাদের চারপাশে আছে নানা প্রলোভন ও পরীক্ষা। কাজেই এগুলো থেকে বাঁচতে আমাদের সদা সর্বদা তাযকিরাহ ( এমন উপদেশ যা আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়) ও সতর্কবাণী মনে রাখা প্রয়োজন, যা আমরা লাভ করতে পারি দৈনিক তিলাওয়াত এর মাধ্যমে।
আল্লাহ এ কারণেই বলছেন,
 “হে মানবকুল, তোমাদের কাছে উপদেশবানী এসেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য”। [ইউনুস ৫৭]
“আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত…”।ইসরা ৮২
অন্তরের ব্যধি থেকে মুক্তির এর চেয়ে ভালো ঔষধ আর কে দিতে পারে, আল্লাহ ছাড়া?

৫– আপনি হারাচ্ছেন অন্তরে দৃঢ়তা লাভের সুযোগ !

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর কুর’আন একবারে নাযিল হয়নি, বরং তা ২৩ বছর সময় ধরে ধীরে ধীরে নাযিল হয়েছে।
 “সত্য প্রত্যাখানকারীরা বলে, তাঁর প্রতি সমগ্র কোরআন একদফায় অবতীর্ণ হল না কেন? আমি এমনিভাবে অবতীর্ণ করেছি এবং ক্রমে ক্রমে আবৃত্তি করেছি আপনার অন্তকরণকে মজবুত করার জন্যে”। ফুরকান ৩২
অন্তর দৃঢ়তা লাভ করে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও সতর্কতার খবর লাভ করে, ঈমান বৃদ্ধি পায়।
আল্লাহ বলেন,
“আর যখন কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, এ সূরা তোমাদের মধ্যেকার ঈমান কতটা বৃদ্ধি করলো? অতএব যারা ঈমানদার, এ সূরা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়েছে”। তাওবা ১২৪
প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে সালাতে কিংবা কিরাতে অর্থ বুঝে কুর’আন তিলাওয়াত ও আল্লাহর আয়াতসমূহের উপর চিন্তা গবেষণা দ্বারা আমাদের অন্তর দৃঢ়তা লাভ করে। অর্থ বুঝে কুর’আন তিলাওয়াত না করে আপনি এ সু্যোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ।
৬-প্রতিদিন সালাতে আল্লাহর সাথে কথোপকথনের সুযোগ হারাচ্ছেন !
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুর’আনের আয়াতের সাথে যেন কথা বলতেন !
“আর যখন তিনি এমন আয়াত পড়তেন যেখানে আল্লাহর প্রশংসা করা হয়েছে, তিনি তাঁর প্রশংসা করতেন, আর যখন তিনি এমন আয়াত পাঠ করতেন যেখানে আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাওয়ার কথা বলা হয়েছে, তিনি চাইতেন, আর যখন তিনি এমন কোন আয়াত পাঠ করতেন যেখানে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে, তিনি আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন” [মুসলিম]
প্রিয় পাঠক ! ভেবে দেখুন, আমরা যখন আমাদের প্রিয়জনদের কাছাকাছি থাকি, তখন কি আমরা মিনিট পাঁচেকের জন্যেও কথা না বলে চুপ করে থাকতে পারি? আর আল্লাহর চেয়ে অধিক আপন আর কে হতে পারে?
তিনি আমাদেরকে আমাদের আপন মায়ের চেয়েও সত্তর গুণ বেশি ভালোবাসেন।
এরপরও আমরা জানার প্রয়োজন মনে করি না, আজকে সালাতে কি তিলাওয়াত করা হল!
আল্লাহ কি বিষয়ে কথা বলেছেন!
এমনকি কিছুমাত্র অর্থ না বুঝে আমরা কাটিয়ে দেই পুরো রামাদানের তারাবীহ’র সালাত !
৭-সরাসরি হেদায়াত ও পথ নির্দেশনা লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন !
আমরা যখন কুর’আন পাঠ করি কিংবা এর তিলাওয়াত শুনে থাকি তখন আমরা সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকে দিক নির্দেশনা লাভ করতে পারি,পথ চলার বাতি লাভ করি। হেদায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া এক অপূরণীয় ক্ষতি।
“এবং যে আমার স্মরণ (কুর’আন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, 
তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। 
সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো (দুনিয়াতে) চক্ষুমান ছিলাম।
আল্লাহ বলবেনঃ এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, 
অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাব”। ত্বহা ১২৪-১২৬
“…আমি আমার কাছ থেকে আপনাকে দান করেছি পড়ার গ্রন্থ। 
যে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে কেয়ামতের দিন বোঝা বহন করবে”। ত্বহা ৯৯-১০০



৮-আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন !

আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের বিভিন্ন মাত্রা রয়েছে- তাঁর প্রতি ভালোবাসা, আন্তরিকতা, তাঁর উপর ভরসা করা, আল্লাহকে স্মরণ করা সরাসরি কিংবা যখন আমরা তাঁর কোন আয়াত তথা সৃষ্টি নিদর্শন দেখতে পাই, তাঁর সৃষ্টিকে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা, তাঁর গুণবাচক উত্তম নামসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ ইত্যাদি নানাবিধ বিষয় রয়েছে। এই সম্পর্ক কেবল সময়ের সাথে সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হয়। আর এজন্য প্রয়োজন অল্প করে হলেও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দৈনন্দিন কিছু না কিছু আল্লাহর কালামের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা।

৯– আপনার চরিত্র হতে পারতো আল-কুর’আন এর মত ! 

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, “কুর’আনই হল আল্লাহর রাসূল(সা) এর আখলাক”।
কুর’আন যদি হয় তত্ত্বকথা (থিওরি) তাহলে তার ব্যবহারিক হাতে কলমে প্রদর্শনী দিয়েছেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সমগ্র জীবনের মাধ্যমে। আমাদের উচিত নবীজী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) জীবনীগ্রন্থ পাঠ করা এবং সেই ঘটনাপ্রবাহের সাথে আয়াতসমূহের মিল খুঁজে বের করা।
যেমন, হিজরতের সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একান্ত মনে নিবিষ্ট চিত্তে, নির্ভাবনায় সাথে পাঠ করে যাচ্ছিলেন একটি আয়াত, অপরদিকে সাথী আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সংগীর নিরাপত্তা চিন্তায় উদ্বিগ্ন। সেটি হল,
 “…হে আমার রব! (আমাকে যেখানেই নিয়ে যাও না কেন) তুমি আমাকে সত্যের সাথে নিয়ে যেও এবং (যেখান থেকেই আমাকে বের করো না কেন) সত্যের সাথেই বের করো এবং দান করো আমাকে তোমার কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় সাহায্য”। [ইসরা ৮০]

১০- কুর’আনের চোখে বিশ্ব দেখার সুযোগ হারাচ্ছেন !

এ পৃথিবী একটি মায়ার জগত, যেন এক মস্ত কুহেলিকা আর ধোঁকা, যার অন্তরে কুর’আন নেই তার অন্তর একটি শূণ্য ঘরের মত যে ঘরে কোন আসবাব নেই। কুর’আনের শিক্ষা না থাকার কারণে সে দুনিয়ার জগতকেই বড় ও আসল বলে মনে করে, ফলে সে পরকালের প্রতি হয়ে পড়ে উদাসীন। এরূপ ব্যক্তির জীবন যতই সুখকর হোক না কেন তা শুধুই স্বপ্নের মত, যা ঘুম ভেঙ্গে গেলে হারিয়ে যায়।
যখন একজন ডাক্তারের কাছে এসে কোন রোগী নিজের সমস্যা ও অসুস্থতার বর্ণনা দিতে থাকে তখন অভিজ্ঞ ডাক্তার সেই লক্ষণসমূহ শুনতে থাকেন এবং রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন, পরিশেষে তিনি নিরাময়ের জন্য ঔষধ কিংবা পরামর্শ দান করেন। একইভাবে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা বিচিত্র ঘটনার সামনে এসে দাঁড়াই।
আমাদের উচিত আমরা যেন সেই সমস্যাগুলোর সমাধান আল্লাহর কালামের কাছ থেকে নেয়ার মত সক্ষমতা অর্জন করি। এটা কেবল তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা নিয়মিতভাবে কুর’আনের অর্থ শিক্ষা লাভ করব এবং সেই শিক্ষার সাথে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পরিস্থিতির মিল খুঁজে বের করতে পারব।

Read More »

Friday, September 15, 2017

খাদ্য অপচয়

২০০৫ সালের কথা। দীপালিদের বাসায় নিয়ম ছিল যে সে খাবে রাতের ভাত, আর দুপুরে খাবে তারভাই। এই নিয়মের পিছনে জিরো ফিগারের বাসনা না – ছিল তার বাবার চাল কেনারঅক্ষমতা। একদিন সন্ধ্যায় দীপালীর ভাই এমনই ক্ষুধার্ত ছিল যে সে তার বোনেররাতের ভাগটুকু খেয়ে নেয়। প্রায় ২৪ ঘন্টার অভুক্ত দীপালি যখন দেখে তারভাত তার আপন ভাই চুরি করেছে তখন অভিমানে তার কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। আরকোনদিন যেন বাবা-মার কাছে ভাত না চাইতে হয়, তাই সে কন্ঠে কাপড় জড়িয়েঝুলে পড়ে। জীবনের মত সে তার ভাগের ভাতটা ভাইকে দিয়ে যায়।
আমরা জানি আত্মহত্যা মহাপাপ। তবে আমরা এটা জানিনা যে আজ রাতে আমাদের হাঁড়িধোয়ার সময় যে ভাতগুলো ফেলে দেয়া হবে তাতে দীপালির ভাগ ছিল। যতই জনসংখ্যাবাড়ুক, এই দুনিয়াতে আল্লাহ যত মুখ সৃষ্টি করেছেন তাদের সবার খাবারেরভাগও তিনি রেখেছেন। যখন কেউ কারো মুখের গ্রাস কেড়ে নেয় তখন মানুষঅনাহারে আত্মহত্যা করে। গরীব মানুষের মুখের গ্রাস শুধু মাল্টি ন্যাশনালকোম্পানিগুলো একা কেড়ে নেয়না, আমরাও নেই।

রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন তোমরা বেশী খেওনা। যদি খাও তবে অপর ভাইয়ের ভাগ খেয়ে ফেলতে পার। আমরা শুধুই যে বেশী খাই তা নয়, বেশী খেতে খেতে ক্লান্ত হয়ে উচ্ছিষ্টাংশটি ডাস্টবিনের কুকুরদের সমর্পণ করি। চারপেয়ে এবং দু’পেয়ে কুকুর। বাংলাদেশে বিয়ে বাড়িতে মোচ্ছব চলেপ্লেট ভর্তি করার। পিজা হাট অফার দেয় – এস কত খেতে পার। সিয়াম মানে সংযমকে বলেছে? সিয়াম মানে রাক্ষসের মত খাওয়া, যত বেশী খাওয়া যাবে ততই লাভ। সারা বছরে মাত্র একবার পিজা হাট ইসলামের শিক্ষাকে বুড়ো আঙুল দেখায় – সেটা রমাদান মাসে। সিয়াম মানে সংযম কে বলেছে? যিনি দশ পদের কমে ইফতার করেননা তিনি? আমেরিকায় দেখেছি মসজিদ মসজিদে মুফতে ইফতার দেয়। মানুষ ডিসপোজ্যাবল প্লেট ভরে খাবার নেয়, কিছুটা খায়, কিছুটা ছড়ায় তারপরে প্লেট ভাজ করে ট্র্যাশে ফেলে দেয়। বিরিয়ানি ভর্তি প্লেট। রুটি-মাংশ ভর্তি প্লেট। নাশপাতি-আঙুর-খেজুর ভর্তি প্লেট। বাবা-ছেলে পাশাপাশি বসে একই কাজ করে। ফেলেদেয়ার আগে একটুও হাত কাঁপেনা। মাথায় একটুও আসেনা যে সোমালিয়াতে সেইমূহুর্তে মানুষ ইফতার করছে শুধু বাতাস দিয়ে। সৌদি আলিমদের কাছে ফতোয়াজানতে চাচ্ছে – তাদের সেহরিতে খাবার কিছু নেই, ইফতারেও কিছু জোটেনা; তাদেররোজা হবে তো? সৌদি মুফতি উত্তর দিতে পারেননি, ঝরঝর করে কেঁদেছেন। আমরা কেউ প্রশ্নটা শুনতে পাইনি। আমরা তখন খেতে ব্যস্ত ছিলাম।
পৃথিবী কত বদলে যায়। এইতো বছর পঞ্চাশেক আগেও সোমালিয়াকে বলা হত আফ্রিকার রুটির ঝুড়ি। সেই সবুজ আজ কোথায় হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে গরু-ছাগলের পাল। মানুষের পাল এখন খোঁয়ারে থাকে। আইএমএফ দয়া আর মমতার বাঁধনে বেঁধে রেখেছে ওদের। ভালবেসে ঋণ দিয়েছে। তারপর বাতলে দিয়েছে ঋণ শোধের উপায়। এই বাঁধনকি আর ছেড়া যায়? বিজ্ঞানীরা বলবেন ক্লাইমেট চেঞ্জ – জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণেই নাকি এ দুর্ভিক্ষ। পশ্চিমা মিডিয়া বলবে আল-শাবাব মুসলিম চরমপন্থীদের জন্যই আজ এই দশা। খিলাফাতওয়ালারা বলবে তাগুতের তাবেদার সরকারের দোষ। আমি কিছু বলবনা। আমার চোখে ভাসতে থাকবে বিশাল সব ট্র্যাশব্যাগ। কালো কালো ট্র্যাশব্যাগ। একটা ব্যাগে যে পরিমাণ খাবার ফেলে দেয়া হয়েছে তাতে একটা গ্রামের সবগুলো ক্ষুধার্ত মানুষ পেটপুরে খেতে পারত।
শস্য-শ্যামলা-সুজলা বাংলাদেশে এখন জল নেই। আমনের মৌসুমে যেখানে খেত জলে থই থই করে সেখানে এখনপাম্প বসিয়ে সেচ দিতে হয়। ডীপ টিউবওয়েল। পানির স্তর নেমে গেছে বহু দূর, আশি ফুট গভীরতাতেও কাজ চলে না। আমেরিকায় চলছে পঞ্চাশ বছরের সবচে ভয়াবহ খরা। তবু আমাদের বুক কাঁপেনা। ভাবখানা এমন যেন আল্লাহর সাথে পানিচুক্তি করাআছে। অথচ আল্লাহ বলছেন নেই। মহান আল্লাহ হুমকি দিলেন সুরা মুলকের শেষে – তিনি যদি পানির স্তর নামিয়ে নেন তাহলে ভূ-পৃষ্ঠে কে দেবে পানি?
আমরা এই হুমকির থোড়াই কেয়ার করি।
আল্লাহ আল কুরআনের দুই জায়গাতে বলেছেন, তোমরা অপচয় করোনা, আল্লাহ অপচয়কারীকে ভালবাসেননা। আমরা আল্লাহর ভালোবাসার থোড়াই কেয়ার করি। নানান জাতের ভালোবাসাতে ভর্তি হয়ে আছে টিভি। আল্লাহর ভালোবাসা না দেখা যায়, না বেচাযায়। এ ভালোবাসা দিয়ে কি করব?
রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন কারো কাছ থেকে মাটিতে খাবার পড়ে গেলে সে যেন সেটা তুলে, ধুলোটা ঝেড়ে খেয়ে ফেলে; শয়তানের জন্য রেখে না দেয়। তিনি খাবার পরে হাত চেটে খেতে বলেছেন, কারণ খাবারের কোন অংশে বারাকাত আছে সেটা মানুষ জানেনা।১ আমাদের যে টেবিল ভদ্রতা শেখান হয় তাতে পতিত খাবার অচ্ছুত ময়লা, তুলে খাওয়া তো দূরে থাক সেটা স্পর্শই করা যাবেনা। কাজের মানুষেরা পরে ঝাড়ু দিয়ে সেটা ফেলে দেবে। হাতের আঙুল বা থালা মুছে খাওয়াতো নিতান্ত অসৌজন্যতা। ইহুদিরা জেরুজালেমে মুসলিমদের হারিয়ে দিয়েছে বলেআমরা হায় হায় করি। আর এদিকে আমরা নিজেরা নিজেদের ডাইনিং টেবলে ইসলামকে হারিয়ে দিয়েছি। শয়তান এখন আর আমাদের শত্রু না – বন্ধু। তাকে আসন পেতেদেই খেতে। পেট ভরার পরে বাকি খাবারটা তার জন্য বরাদ্দ করে রাখি। আর বারাকাত দিয়ে আমরা কি করব? বারাকাত কমছে বলেই খাবারে বিষ দেয়া হচ্ছে, লাফিয়ে লাফিয়ে খাবারের দাম বাড়ছে, খাবারের স্বাদ-তৃপ্তি সব উধাও হয়ে যাচ্ছে। আপন হাতে কল্যাণের দরজা বন্ধ করে রেখে অন্যকে দুষে কি লাভ?
ইসলামের কথা বাদ দেই, খাবার নষ্ট মানে তো কৃষককে অপমান করা। তার শ্রম, তারকষ্টটাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা। আমরা শহুরে মানুষ; একগোছা ধান ফলাতে কি কষ্টআমরা কি করে বুঝব? আমাদের কাছে পাতে ফেলে রাখা এক মুঠ ভাতের দাম কয়েকপয়সা মাত্র – এর চেয়ে বেশী কিছু তো নয়। রান্না করা খাবার ফেলে দেয়া মানে সেই মানুষটার প্রতি অশ্রদ্ধা যে কষ্ট করে খাবারটা রান্না করল চুলার আঁচ সহ্য করে। সেই মানুষটার প্রতি অসম্মান যে কষ্ট করে খাবারটা বয়ে নিয়ে আসল বাজার থেকে। আমরা বুদ্ধিজীবি মানুষ। কাজের মানুষদের সময় আর শ্রম কিনে নিয়েছি কয়েক টাকায়। টাকা দিয়ে সব কিছু শোধ করা যায়না – এটা আমরা বুঝতে চাইনা।
পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ ছিলেন রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মদিনাতে হিজরত করার পরথেকে তারমৃত্যু অবধি তার পরিবার পরপর তিনদিন পেটপুরে খেতে পারেনি।২ সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী মানুষদের এমন সময়ের মধ্যে যেতে হয়েছে যখন হাবালা গাছের পাতা ছাড়া তাদের আর কোন খাবার ছিলনা। তাদের মল আর ভেড়ার মলের কোন পার্থক্য ছিলনা।৩ আমাদের আল্লাহ খাবারের যে প্রাচুর্য দিয়েছেন সেটাকে আল্লাহর নিয়ামাত বলে আমরা ভাবতে ভালবাসি; ভুলেও চিন্তা করিনা এটা আল্লাহর পরীক্ষাও বটে। আমরা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে খাবার নষ্টের মাধ্যমে আল্লাহর অকৃতজ্ঞতা করছি। শাস্তি হিসেবে ক্ষুধাকে চেয়ে নিচ্ছি।

ভাই, আপনি যদি কুরআনকে আল্লাহর বাণী বলে বিশ্বাস করে থাকেন তাহলে এরপর যখন আপনি থালায় একটিও ভাত রেখে উঠে যাবেন তখন মনে রেখেন – ইন্নাহু লাইয়ুহিব্বুল মুসরিফিন – নিশ্চয় আল্লাহ অপচয়কারীকে ভালবাসেননা। বোন, আপনি যখন আপনার সন্তানের উচ্ছিষ্ট খাবারটি ফেলে দিচ্ছেন তখন মনে রেখেন – ইন্নাহুলা ইয়ুহিব্বুল মুসরিফিন। বেগুনের এক কোণে একটু দাগ থাকার কারণে যখনপুরোটা ছুড়ে ফেলে দিচ্ছেন তখন মনে রেখেন – ইন্নাহু লা ইয়ুহিব্বুল মুসরিফিন।
পৃথিবীর মানুষের ভালবাসা না পেলেও জীবন কাটিয়ে দেয়া যায়; পৃথিবীর রব্ব আল্লাহর ভালবাসা না পেলে ধ্বংস অনিবার্য। আল্লাহ যেন আমাদের মুসরিফিন হবার হাত থেকে রক্ষা করেন। খাবারনষ্ট করা যাবেনা এটা যেন আল্লাহ আমাদের মননে-জীবনে গেঁথে দেন।

Read More »

Tuesday, September 5, 2017

পবিত্র কোরআন ও বিজ্ঞান

বিজ্ঞান নের ও অনেক অনেক বড় বিজ্ঞান হল পবিত্র কোরআন  জা কোরআনে ১৪০০স বছর আগে বলেছে তা আজ আমাদের বিজ্ঞান  আবিষ্কার করছে
১ – বিজ্ঞান কিছুদিন আগে জেনেছে চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই। সূরা ফুরক্বানের ৬১ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।
২ – বিজ্ঞান মাত্র দুশো বছর আগে জেনেছে চন্দ্র এবং সূর্য কক্ষ পথে ভেসে চলে… সূরা আম্বিয়া ৩৩ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।
৩ – সূরা কিয়ামাহ’র ৩ ও ৪ নং আয়াতে ১৪০০ বছর আগেই জানানো হয়েছে; মানুষের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে মানুষকে আলাদা ভাবে সনাক্ত করা সম্ভব। যা আজ প্রমাণিত।
৪ – ‘ বিগ ব্যাং’ থিওরি আবিষ্কার হয় মাত্র চল্লিশ বছর আগে। সূরা আম্বিয়া ৩০ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।
৫ – পানি চক্রের কথা বিজ্ঞান জেনেছে বেশি দিন হয় নি… সূরা যুমার ২১ নং আয়াতে কুরআন এই কথা বলেছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।
৬ – বিজ্ঞান এই সেদিন জেনেছে লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানি একসাথে মিশ্রিত হয় না। সূরা ফুরকানের ২৫ নং আয়াতে কুরআন এই কথা বলেছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।


৭ – ইসলাম আমাদেরকে ডান দিকে ফিরে ঘুমাতে উৎসাহিত করেছে; বিজ্ঞান এখন বলছে ডান দিকে ফিরে ঘুমালে হার্ট সব থেকে ভাল থাকে।
৮ – বিজ্ঞান এখন আমাদের জানাচ্ছে পিপীলিকা মৃত দেহ কবর দেয়, এদের বাজার পদ্ধতি আছে। কুরআনের সূরা নামল এর ১৭ ও ১৮ নং আয়াতে এই বিষয়ে ধারণা দেয়।
৯ – ইসলাম মদ পানকে হারাম করেছে , চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে মদ পান লিভারের জন্য ক্ষতিকর।
১০ – ইসলাম শুকরের মাংসকে হারাম করেছে। বিজ্ঞান আজ বলছে শুকরের মাংস লিভার, হার্টের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
১১- রক্ত পরিসঞ্চালন এবং দুগ্ধ উৎপাদন এর ব্যাপারে আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞান জেনেছে মাত্র কয়েক বছর আগে। সূরা মুমিনূনের ২১ নং আয়াতে কুরআন এই বিষয়ে বর্ণনা করে গেছে।
১২ – মানুষের জন্ম তত্ব ভ্রুন তত্ব সম্পর্কে বিজ্ঞান জেনেছে এই কদিন আগে। সূরা আলাকে কুরআন এই বিষয়ে জানিয়ে গেছে ১৪০০ বছর আগে।
১৩ – ভ্রন তত্ব নিয়ে বিজ্ঞান আজ জেনেছে পুরুষই ( শিশু ছেলে হবে কিনা মেয়ে হবে) তা নির্ধারণ করে। ভাবা জায়… কুরআন এই কথা জানিয়েছে ১৪০০ বছর আগে।
( সূরা নজমের ৪৫, ৪৬ নং আয়াত, সূরা কিয়ামাহ’র ৩৭- ৩৯ নং আয়াত)
১৪ – একটি শিশু যখন গর্ভে থাকে তখন সে আগে কানে শোনার যোগ্যতা পায় তারপর পায় চোখে দেখার। ভাবা যায়?
১৪০০ বছর আগের এক পৃথিবীতে ভ্রুনের বেড়ে ওঠার স্তর গুলো নিয়ে কুরআন বিস্তর আলোচনা করে। যা আজ প্রমাণিত !
( সূরা সাজদাহ আয়াত নং ৯ , ৭৬ এবং সূরা ইনসান আয়াত নং ২ )
১৫ – পৃথিবী দেখতে কেমন? এক সময় মানুষ মনে করত পৃথিবী লম্বাটে, কেউ ভাবত পৃথিবী চ্যাপ্টা , সমান্তরাল… কোরআন ১৪০০ বছর আগে জানিয়ে গেছে পৃথিবী দেখতে অনেকটা উট পাখির ডিমের মত গোলাকার।
১৬ – পৃথিবীতে রাত এবং দিন বাড়া এবং কমার রহস্য মানুষ জেনেছে দুশ বছর আগে।
সূরা লুকমানের ২৯ নং আয়াতে কুরআন এই কথা জানিয়ে গেছে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে !!
……আমাদের সমস্যা হল আমরা সব কিছুই জানি… যারা নাস্তিক তারাও জানে… পার্থক্য টা হল ‘বোধ’ এর। 

Read More »

Friday, August 25, 2017

ইসলাম : একটি ধারণা !

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আমরা তাঁর প্রশংসা করি এবং আমরা তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের মন্দ থেকে এবং আমাদের কর্মের মন্দ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ একমাত্র ইবাদতের যোগ্য এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা এবং সর্বশেষ রাসূল। আল্লাহ শেষ এবং চূড়ান্ত রাসূল মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার এবং তাঁর অনুসারীদের প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন। আমীন!
শুরুতে: সর্বোত্তম উপদেশ হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, এবং সর্বোত্তম পথ হচ্ছে মুহাম্মাদের অনুসৃত পথ, এবং দ্বীনের মাঝে নিকৃষ্টতম বস’ হচ্ছে নতুন উদ্ভাবনসমূহ, কারণ দ্বীনে প্রতিটি নব উদ্ভাবন হচ্ছে বিপথগামীতা, প্রতিটি বিপথগামীতা হচ্ছে সরল পথ থেকে বিচ্যুতি, আর প্রতিটি বিচ্যুতির পরিণাম জাহান্নাম।
আমি ‘দি ইকোনমিস্ট’ ম্যাগাজিনের জরিপের বিষয়বস্তু ‘ইসলাম এবং পশ্চিম’ (আগস্ট ৬, ১৯৯৪ সংখ্যা, বড় আকারে সন্নিবেশিত) সম্পর্কে বিশেষভাবে বিবেচনার পর সমালোচনা লিখতে শুরু করেছি, এবং নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বোত্তম সাহায্যকারী। নোয়াম চমস্কি যাকে “বানানো সম্মতি” বলছেন, ব্রায়ান ব্রিডহ্যামের পক্ষে তার উপর নির্ভর করা সম্ভব। যেক্ষেত্রে একনায়কতন্ত্র লোকের সম্মতি আদায় করতে ও বিরোধিতা ঠেকাতে শক্তি প্রয়োগ করে, সেখানে “গণতন্ত্র” প্রচার মাধ্যমকে বিশেষ বিশ্বব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করে সম্মতি তৈরী করতে ব্যবহার করে থাকে। যা কমবেশী শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। ছোট, সংক্ষিপ্ত আকারের একটি প্রবন্ধ লিখে সে পার পেয়ে যেতে পারে, কারণ তাকে তার অধিকাংশ বক্তব্যই প্রমাণ করতে হয় না, তাকে শুধু জোড়া দেওয়া, প্রচলিত মামুলি মন্তব্যসমূহের পুনরাবৃত্তি করতে হয়। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, যখন তিনি আলজেরীয় মুসলিমদের “একদল ইসলামী বিদ্রোহী যারা আপোষহীনতার বৈশিষ্ট্যসূচক, সবচেয়ে নিষ্ঠুর প্রকৃতির মৌলবাদী” হিসাবে বর্ণনা করেন, তাঁকে সেটা প্রমাণ করতে হয় না, কারণ কর্তৃপক্ষ এটা ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে এটাই সত্য বলে লোকে বিশ্বাস করবে। আসলে বিবৃতিটি মোটেও সত্য নয়। আলজেরীয় মৌলবাদীরা প্রমাণ করেছে যে তারা নির্বাচন করতে এবং ইসলামী শরীয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠার শান্তিপূর্ণ উপায় খুঁজে পেতে ইচ্ছুক। সামপ্রতিক ঘটনাবলী, যেমন রোমে “বিদ্রোহী মৌলবাদী”দের অন্তর্ভুক্ত করে বিরোধী গ্রুপগুলির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে-যা ফরাসী সরকার পর্যন্ত সমর্থন করেছে এবং আলজেরীয় সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে-এটাই প্রকাশ করছে যে আলজেরীয় সরকারই বরং নিষ্ঠুর মানসিকতার অধিকারী। এ ধরনের স্পষ্ট প্রতীয়মান অসামঞ্জস্য সত্ত্বেও জনাব ব্রিডহ্যাম কোন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হন না, কারণ এই ঐকমত্য আগেই তৈরি হয়ে আছে যে মৌলবাদীরাই বিদ্রোহ পরায়ণ ও নিষ্ঠুর মানসিকতার অধিকারী।



একইভাবে তিনি কখনোই অনুভব করেন না যে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে গণতন্ত্র একটি সুবিধা, এটা প্রায় সম্পূর্ণ স্বতঃসিদ্ধ হিসেবেই ধরে নেওয়া হয়েছে, কারণ তিনি জানেন যে তাঁর শ্রোতাবৃন্দ বলতে গেলে প্রায় “বন্দী”। আওয়াজের হুল-ফোটানোর (হয়তো এক্ষেত্রে শব্দের হুল-ফোটান) এই যুগে, প্রচলিত জ্ঞানের বিরুদ্ধে যাওয়া সহজ নয়, কারণ জনাব ব্রিডহ্যামের মত লোকেরা যা একটি বাক্যে বলেন, তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে সেটি একটি বই হয়ে যাবে। তারপরও তার কার্যকারিতায় সন্দেহ থেকে যাবে, কারণ সমাজের মূল্যবোধের বিরোধিতা করা আমাদের মত স্বভাবগত সামাজিক জীবের জন্য অত্যন্ত কঠিন পথের একটি। এজন্য আমি একগুচ্ছ প্রবন্ধ লিখব, একটি নয়, যাতে আমার সমালোচনাটিকে অনেকগুলি সাজানো-গোছানো খণ্ডে ভাগ করা যায়। কিছু বিষয় আমি পরিশিষ্টেও উল্লেখ করবো, যাতে ভিডিও এবং অডিও টেপও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইসলাম : একটি ধারণা!

নিঃসন্দেহে কোন মুসলিম ইসলামকে কেবলমাত্র একটি ধারণা হিসাবে গ্রহণ করতে পারে না। জরিপে যা উল্লেখিত হয়েছে তা হলো, ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে “আল্লাহর বাণী, যা চৌদ্দশত বছর আগে প্রতিটি শব্দাংশে মুহাম্মাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল” (পৃ. ৪, অ. ২)। অর্থাৎ এটা ধারণামাত্র নয়, বরং এটাই ধারণা, এটাই আদর্শ, এটাই সত্য, অন্য সব কিছু বাদে। কুরআন যেমন বলছে:
“নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে দ্বীন হচ্ছে ইসলাম” … “এবং যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মকে জীবন বিধান হিসাবে চাইবে, তা কখনও গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের দলভুক্ত” (সূরা আলে-ইমরান ৩:৮৫)।
দ্বীনকে সম্পূর্ণ এবং বিশুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এবং পরিবর্তন বা খাপ খাওয়ানোর কোন প্রয়োজনীয়তা নেই: “আজ আমরা তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য সম্পূর্ণ করে দিয়েছি এবং আমাদের অনুগ্রহ তোমাদের উপর পরিপূর্ণ করেছি এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসাবে মনোনীত করেছি।” নবী (সঃ) আরো বলেছেন: “ আমি এমন কোন কিছু জানাতে বাদ রাখিনি যা তোমাদের জান্নাতের নিকটবর্তী করবে ও জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে, এবং এমন কোন কিছু থেকে সতর্ক করতে বাকী রাখিনি যা তোমাদেরকে জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে ও জাহান্নামের নিকটবর্তী করবে।” এটা নিঃসন্দেহে সত্য যে ইসলাম তার অনুসারীদের জীবনের “আভ্যন্তরীণ” ও “বাহ্যিক” বিশ্বাস এবং কর্ম, ধর্ম ও রাজনীতি এসবের মাঝে পার্থক্য করা অনুমোদন করে না, কারণ বাস্তবে এসব পার্থক্য সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক। মানুষের বিশ্বাস হচ্ছে তার কর্মের ভিত্তি ও প্রধান চালিকাশক্তি, কারণ যা কিছু অন্তরে সত্যি বলে মনে করা হয়, বাইরে অবশ্যই তার প্রকাশ ঘটে। কার্যতঃ মুহাম্মাদ (সঃ) কে সর্বপ্রথম যে কাজ দেওয়া হয়েছিল, তা হচ্ছে ভুল বিশ্বাসকে সংশোধন করা। মুশরিক আরবরা যে আল্লাহতে, বা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করত না তা নয়। বস্তুতঃ কুরআন মুহাম্মাদ (সঃ) কে বলছে:
“তুমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা কর আকাশ থেকে কে বৃষ্টি বর্ষণ করে? তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ!’ বল: ‘সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহরই!’ না! তাদের অধিকাংশেরই কোন চেতনা নেই।” (সূরা আনকাবুত ২৯:৬৩)
“বল: ‘কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে জীবনোপকরণ সরবরাহ করে অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন? কে মৃত থেকে জীবিতকে নির্গত করে এবং সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে?’ তখন তারা বলবে, ‘আল্লাহ!’ বল: ‘তবুও কি তোমরা সাবধান হবে না’?” (সূরা ইউনুস ১০:৩১)
সত্যি বলতে কি মুশরিক আরবরা প্রয়োজন ও কষ্টের সময় আল্লাহর ইবাদত করত, তাঁর কাছে প্রার্থনা করত এবং কুরবানী করত, ইহুদী ও খৃস্টানদের মত, এবং তারা এমনকি আল্লাহকে ভালবাসার দাবীও করতো, কিন্তু তাদের এ সবকিছুই আল্লাহ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাদেরকে নির্বোধ ও বিপথগামী হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং অবিশ্বাসী বলেছেন। অতএব এটাই অধিকাংশ মানুষ ও জ্বিনের বেলায় বাস্তবতা যে তারা দাবী করে যে তারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে ও আল্লাহর ইবাদত করে, কিন’ আল্লাহ সম্পর্কে তারা যা বিশ্বাস করে তা অশুদ্ধ, এবং তাদের ইবাদতের পদ্ধতিও সঠিক নয়…
“তাদের অধিকাংশ আল্লাহতে বিশ্বাস করে কিন’ তাঁর শরীক করে” (সূরা ইউনুস ১২:১০৬)
… এবং এর প্রকাশ বিভিন্ন এবং অশুভ ফলাফল অগণিত।
এসব কিছুরই একটি সাধারণ কারণ বা মূল আছে, তা হচ্ছে কোন জ্ঞান ছাড়া আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা করা ও বলা, এভাবে তাঁর প্রতি এমন কিছু আরোপ করা যা তাঁকে আরোপ করা যায় না, যেমন পুত্র অথবা কন্যা, বা মানবীয় গুণ ও দোষসমূহ, বা এমন দাবী করা যে তাঁর কোন সৃষ্টি তাঁর শক্তি ও সামর্থ ধারণ করে, বা এমন কোন কাজে তিনি ক্রুদ্ধ হন বলে মনে করা যা আসলে তাঁকে সন্তুষ্ট করে। সুতরাং এভাবে মূর্তিপূজারীরা এমন কাউকে ডাকে যে তাদের কোন ভাল বা মন্দ কোনটাই করতে পারে না, এবং খৃস্টানরা যীশুকে ডাকে, এবং ইহুদীরা বিশ্বাস করে তাদের জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব তাদেরকে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য করবে, এবং যারা বিশ্বাস করে যে সাফল্যের উপায় হলো শক্তি, সম্পদ ইত্যাদি ; তারা সকলেই তাদের বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন করেছে অসার জিনিসে – এটা নিজেই একটা বিরাট মন্দ, কারণ তারা শুধু তাদের সময় এবং প্রচেষ্টা বিনষ্ট করেছে, যদিও এটাই সবচেয়ে কম খারাপ পরিণতি। সবচেয়ে যা গুরুতর তা হচ্ছে… যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে তাঁর ক্রোধ এবং আযাব অর্জন করেছে, এবং তাদের উপর দুনিয়াতেও লাঞ্ছনা রয়েছে আর আখিরাতে ভয়ঙ্কর পরিণতি
“নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন” (সূরা আন-নিসা ৪:৪৮)।
সুতরাং “শিরক” বা আল্লাহর অংশী স্থাপন করা (তা যেভাবেই হোক না কেন) হচ্ছে ক্ষমার অযোগ্য পাপ, কারণ বাস্তবে এটা সকল অমঙ্গলের মূল, সবচেয়ে বড় অবিচার, নিকৃষ্ট জুলুম এবং কুকাজ। এটা এজন্য যে কেউ যদি আল্লাহ সম্পর্কে না জেনে মন্তব্য করতে দ্বিধা না করে – যে জ্ঞান তাঁর মাধ্যমে ছাড়া অর্জন করা যায় না যেহেতু তিনিই নিজের সম্পর্কে এবং নিজের ইচ্ছা সম্পর্কে এবং কি তাঁকে সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট করে, সে সম্পর্কে সবচেয়ে ভাল জানেন – তাহলে অন্য কার সম্পর্কে কেউ মূর্খের মত কথা বলতে ভয় করবে? সত্যিই, যে প্রকৃতির ধ্বংসকারী শক্তি সম্পর্কে সচেতন, এ দুনিয়ায় ও পরকালে যেসব অকথ্য দুর্ভাগ্য ও দুর্দশা মানুষের জন্য রয়েছে যার উপর আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোন শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ নেই তা বোঝে, তার কাছে এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে আল্লাহই হচ্ছেন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং ভয়ের যোগ্য। এবং যে কেউ পৃথিবী ও মহাবিশ্বের ভিতরের অলৌকিক শৃঙ্খলা, খুঁটিনাটি ব্যাপারে যথাযথতা ও জীবজগতের পরস্পর নির্ভরশীলতা খেয়াল করে দেখবে, অবশ্যই সে এসবের সৃষ্টিকর্তার অতুলনীয় জ্ঞান ও বিজ্ঞতা অনুধাবন করবে। সুতরাং কেউ যদি আল্লাহর আইন লংঘন করার ব্যাপারে বেপরোয়া হয় এবং সেগুলিকে ক্ষুদ্র বা তুচ্ছ মনে করে অথবা আরো খারাপ ব্যাপার হচ্ছে যদি সেগুলিকে খারাপ, অশুভ এবং বাতিল বলে মনে করে, তাহলে মানুষের সীমাবদ্ধ ধ্যান-ধারণা-উদ্ভূত আইনের বেলায় কি হবে? কেউ যদি তার সৃষ্টিকর্তা ও রিযিকদাতার প্রতি অকৃতজ্ঞ হতে পারে, তাহলে তার কাছে সৃষ্টির প্রতি অকৃতজ্ঞতা কি অত্যন্ত সামান্য ব্যাপার বলে মনে হবে না? আল্লাহর অধিকার ও তাঁর প্রতি কর্তব্যসমূহ, যা সবচেয়ে বেশী পূরণ-যোগ্য, কেউ যদি তা অস্বীকার করে, তাহলে সে আর কোন অধিকার ও দাবী অস্বীকার করতে ভয় করবে? কল্পনা করুন আপনার কোম্পানীর একজন শ্রমিকের কথা, যে আপনাকে মনে করে ঝাড়-দার এবং ঝাড়-দারকে মনে করে কোম্পানীর পরিচালক! সেখানে কি কুফল দেখা দেবে না? আপনি কি এমন লোককে সহ্য করবেন? যদি করেন, কতক্ষণ পর্যন্ত? এখন ভেবে দেখুন এই নির্বোধ অন্যদের বোঝাচ্ছে ও বাধ্য করছে এতে বিশ্বাস করতে, এবং অধিকাংশই আপনার আদেশ ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিজের পছন্দমত নিয়ম তৈরী করছে এবং ঝাড়ুদারকে নিজেদের নেতা মেনে চলছে যে আসলে বধির ও বোবা!



যেসব মন্দ মানুষকে প্রলুব্ধ করে তার আসল কারণ হচ্ছে অবিশ্বাস, পাপপ্রবণতা ও আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞতা:
“তোমাদের যে বিপদাপদ ঘটে তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন” (সূরা আশ-শূরা, ৪২:৩০)
“মানুষের কৃতকর্মের দরুন জলেস্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদের কোন কোন কর্মের শাস্তি তাদের আস্বাদন করান হয় যাতে তারা সৎপথে ফিরে আসে” (সূরা আর রুম, ৩০:৪১)
যেমন নবী (সঃ) বলেছেন:
“আল্লাহর চেয়ে বেশী মর্যাদা-বোধ সম্পন্ন (গাইরা: কারো সম্মান বা মর্যাদা আহত হলে বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হলে যে প্রচণ্ড রাগ ও ক্রোধের অনুভূতি হয়) কেউ নেই, এবং তাই তিনি লজ্জাজনক কাজ ও পাপকাজ নিষেধ করেছেন। এবং আল্লাহর চেয়ে বেশী প্রশংসা পছন্দকারী কেউ নেই” (সহীহ বুখারী)।
কোন মানুষ তার স্ত্রীকে অন্যের সাথে যিনা করতে দেখলে যত না ক্রুদ্ধ হয়, আল্লাহ তার চেয়েও বেশী ক্রুদ্ধ হন তাঁর বান্দার অবাধ্যতায়। তাহলে যারা তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী ও অংশীদার স্থাপন করে তাঁকে অপমান করে, যা থেকে তিনি মুক্ত, তাদের প্রতি তাঁর ক্রোধ কতখানি হতে পারে! এবং এর অশুভ পরিণতি এই জীবনে সীমাবদ্ধ নয়:
“নিশ্চয় যারা অবিশ্বাস করেছে এবং অবিশ্বাসী অবস্থায় মারা গেছে, তাদের পক্ষে পৃথিবী-পূর্ণ স্বর্ণ বিনিময় স্বরূপ প্রদান করলেও কখনো তা কবুল করা হবে না। এ সকল লোকের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং এদের কোন সাহায্যকারীও নেই” (সূরা আলে ইমরান, ৩:৯১)।
নবী (সঃ) ব্যাখ্যা করেছেন:
“বিচার দিবসে একজন অবিশ্বাসীকে জিজ্ঞাসা করা হবে: ‘মনে কর তোমার কাছে পৃথিবী-পূর্ণ স্বর্ণ রয়েছে, তুমি কি তা জাহান্নামের আগুনের বদলে মুক্তিপণ হিসাবে দান করবে?’ সে বলবে: ’হ্যাঁ’। তখন তাকে বলা হবে: ‘তোমাদেরকে এর চেয়েও সহজ কিছু করতে বলা হয়েছিল, তা এই যে তোমরা আল্লাহর ইবাদতে কাউকে শরীক করো না এবং আল্লাহর আনুগত্য কর, কিন্তু তোমরা প্রত্যাখ্যান করেছিলে।” (বুখারী)
নিঃসন্দেহে সকল নবীর বক্তব্য/বাণী ছিল এক ও অভিন্ন:
“আল্লাহর উপাসনা করার ও তাগুতকে (সে সমস্ত সত্তা, যাদেরকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার পাশাপাশি ইলাহ বা প্রভু হিসেবে বিবেচনা করা হয়) বর্জন করার নির্দেশ দেবার জন্য আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছি” (সূরা আন নাহল, ১৬:৩৬)
এবং নিঃসন্দেহে আল্লাহ এজন্যই মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন:
“আমার দাসত্বের জন্যই আমি মানুষ ও জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি।” (সূরা আয-যারিয়াত, ৫১:৫৬)
সুতরাং “শিরক” (আল্লাহ সাথে অংশী স্থাপন করা) সেই কারণের বিপরীত যেজন্য আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, এবং আমাদের অস্তিত্বের উদ্দেশ্যের বিরোধী, যা হচ্ছে আল্লাহকে এককভাবে ইবাদতের জন্য বেছে নেওয়া, সমস্ত মিথ্যা উপাস্যকে ত্যাগ করা, ত্যাগ, দোয়া, আত্মসমর্পণ, অধীনতা, বাধ্যতা ও সম্মতির সাথে এবং ভালবাসা, ভয়, আশা, বিশ্বাস ও আস্থার সাথে সম্পূর্ণভাবে তাঁর ইবাদত করা, শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করা-তাঁর সৃষ্টির প্রশংসা কামনা না করা, এবং সবকিছুই তাঁর শেষ ও চূড়ান্ত রাসূল মুহাম্মাদ (সঃ) এঁর উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে সেই অনুযায়ী করা, এবং নিজের খেয়াল ও প্রবৃত্তি এবং অনুমানবশতঃ না চলা।
এই আলোচনার সাথে প্রাসঙ্গিকতাপূর্ণ হিসাবে আল্লাহর এই সমস্ত গুণাবলী উল্লেখ করা যায় যা শুধু আল্লাহরই বৈশিষ্ট্য এবং তাঁকে এককত্ব দান করে। যেমন হাকিম-বিচারক, হাকীম-বিজ্ঞ, আলীম-সর্বজ্ঞানী এবং শারঈ-বিধানদাতা। আল্লাহ শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা, নিয়ন্ত্রণকারী ও পালনকর্তা নন, মানবজাতির বিধান দেওয়ার ব্যাপারে এককভাবে জ্ঞান ও বিজ্ঞানসম্পন্ন এবং ভাল-মন্দ, ভুল-শুদ্ধ, হালাল ও হারামের নির্ধারক এবং কোন আইন অনুসারে আমরা বিচার করব, কোন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব সেসবের নির্ণায়ক…
“তিনি কাকেও নিজ কর্তৃত্বের অংশী করেন না” (সূরা আল-কাহফ, ১৮:২৬)… “বিধান দেবার অধিকার কেবল আল্লাহরই” (সূরা ইউসুফ, ১২:৪০)।
আল্লাহ ইহুদী ও খৃস্টানদের সতর্ক করেছেন এবং তাদেরকে অবিশ্বাসী বলেছেন, কারণ
“…তারা আল্লাহ ব্যতীত তাদের পণ্ডিতগণকে এবং সংসার বিরাগীগণকে তাদের প্রতিপালকরূপে গ্রহণ করেছে” (সূরা আত-তাওবা, ৯:৩১)।
নবী (সঃ) বর্ণনা করেছেন যে তাদের পণ্ডিত ও ধর্মযাজকরা “আল্লাহ যা অবৈধ করেছেন তাকে বৈধ বানিয়েছে আর আল্লাহ যা বৈধ করেছেন, তাকে অবৈধ করেছে এবং লোকেরা তা গ্রহণ করেছে…। সুতরাং এটাই হচ্ছে তাদেরকে লোকেদের ইবাদত করা।” সুতরাং মানুষকে কর্তৃত্বের ক্ষমতা দেওয়া পরিষ্কার ও স্পষ্ট প্রতীয়মান অবিশ্বাস এবং শিরক করা বা আল্লাহর সাথে অংশী স্থাপন করা যা ক্ষমার অযোগ্য পাপ এবং সৃষ্টির উদ্দেশ্যের বিপরীত। যদি আল্লাহ ইহুদী ও খৃষ্টানদের দোষারোপ করে থাকেন তাদের কিতাব ও ঐশী বিধানের জ্ঞানে জ্ঞানী লোকদের কাছ থেকে বিধিবিধান গ্রহণের জন্য যারা সেগুলিকে পরিবর্তন ও বিকৃত করেছিল এবং হারামকে হালাল ও হালালকে হারাম করেছিল, আজ পর্যন্ত তারা যা করে চলেছে, তাহলে তাদের বেলায় কি বলা যাবে যারা এসব বিধিবিধান টম, ডিক, হ্যারী যে কারো কাছ থেকে গ্রহণ করে যাদের কোন কিতাব নেই বা কোন প্রজ্ঞা নেই কেবল অনুমান, খেয়ালখুশী এবং প্রবৃত্তির আকাঙ্খা ছাড়া যেমন গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে?!?
অতএব, ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনের জরিপটি স্বীকার করছে যে ইসলাম ভিতরে ও বাইরে, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে পার্থক্য করে না, তবু তারা পরামর্শ দিচ্ছে যে মুসলিমরা যেন এটা বর্জন করে, এবং আল্লাহর বিরুদ্ধে নিকৃষ্টতম ভুল, অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ করে এবং শিরক করে তাঁর প্রতি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করে। আল্লাহ সত্যি বলেন যখন তিনি বলেন:
“ইহুদী ও খৃষ্টানরা তোমার প্রতি কখনো সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর” (সূরা আল-বাকারা, ২:১২০)
এবং আমরা এ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই, তা না হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।

Read More »

Wednesday, March 1, 2017

বাংলাকে ভালোবাসি

সূর্যাস্তটা অসাধারণ লাগছে এখান থেকে দেখতে ।
সেদিকে হা করে তাকিয়ে থাকে জাফর । ওর চেহারার অবস্থা দেখে হেসে ফেলে তৃপ্তি ।
এবার তৃপ্তির সুন্দর হাসিমুখটার দিকে একই ভাবে তাকায় জাফর ।
‘জীবনে সূর্যাস্ত দেখেন নি ?’ হাসির আভা মুখে ধরেই বলে তৃপ্তি ।
একটু হেসে চেহারা স্বাভাবিক করে জাফর ।
‘সূর্যাস্ত ঠিক দেখার জিনিস না । ওটাকে খেয়ে ফেলতে হয় । তাই সূর্য খাচ্ছিলাম ।’
জাফরের কথায় মেয়েটা হেসে কুটিকুটি হয় ।
অথচ ওদের পরিচয় মাত্র চার ঘন্টার । সকালে শহীদ মিনারে গিয়েছিল আর দুপুরে তৃপ্তির সাথে দেখা ।
অনলাইন ম্যাগাজিনে লেখালেখি করে জাফর । পরে একক বইও বের করেছে । মাসিক ম্যাগাজিনগুলোও জাফরের লেখা পেলেই লুফে নেয় । তৃপ্তি মেয়েটা জাফরের ফ্যান হয়েছে ওখান থেকেই । ঠিক ফ্যান বলা উচিত না । এসি ।
জাফরকে বহু কষ্টে ফেসবুকে খুঁজে পেতে আর দেরী করে নি । দেখা করার জন্য আবদার করে বসেছে ।
কি মনে হতে যেন জাফর এই মেয়েটাকে ফিরিয়ে দেয় না বাকি সবার মত । দেখা করতে এসেছে ও আজকে ।
‘চলুন, একটু হাঁটি ।’ আলতো করে বলে মেয়েটা ।
‘হুঁ ।’ দুই হাত পকেটে রেখে মেয়েটার পাশে পাশে হাঁটে জাফর ।
তৃপ্তি একেবারেই হঠাৎ জাফরের ডান হাত জড়িয়ে ধরে । জাফরের মাঝে অবশ্য এতে কোন ভাবান্তর হয় না ।
নদীর ধারে আজ অনেকেই এসেছে । ছুটির দিন আজ । একুশে ফেব্রুয়ারী ।
‘আপনার লেখাতে এত মানুষ মারেন কেন ?’ মেয়েটার প্রশ্নে ঘোর থেকে বেরিয়ে আসে জাফর ।
‘কি জানি । চরিত্রদের যেখানে মরা লাগবে সেখানে আমি নগন্য জাফর আর কি করতে পারি বলুন ?’ রহস্যময় একটা কন্ঠ করে বলে লেখক ।
‘কি খারাপ ! নিজের দোষ এখন চরিত্রদের ঘাড়ে – তাই না ?’ আদুরে গলা দিয়ে রহস্যময় কন্ঠের প্রতিবাদ জানায় তৃপ্তি ।
একটু হাসে শুধু জাফর ।
কানা ফকিরটা কোথা থেকে এসে তৃপ্তির ফতুয়া ধরে খনখনে গলায় বলে, ‘টাকা দে রে মা । ভালো হবে তোর ।’
ফকিরটা চেহারা দেখেই আৎকে ওঠে তৃপ্তি । তেলাপোকাদর্শনের পর নারীকুল যেভাবে চিৎকার ছাড়ে সেভাবেই একটা হাঁক দেয় ও অজানা কারও উদ্দেশ্যে, তারপর কড়া গলাতে বলে, ‘জামা ছাড়ুন ! যত্তসব ফালতু মানুষ !’
জাফর অবশ্য ওয়ালেট বের করে ফেলেছে । কানাটার হাতে একটা পঞ্চাশ টাকার নোট গুঁজে দিতেই অভিভূত হয়ে পড়ে ফকিরটা ।
‘বাবা, দোয়া চা । দোয়া চা ।’
‘সফল হতে পারি যেন ।’ বলে জাফর ।
তৃপ্তি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে । লেখক মানুষরা আধ্যাত্মিক ব্যাপারে বিশ্বাস করে না বলেই জানত ও । দেখা যাচ্ছে জানায় ভুল ছিল !
ওরা আবার হাঁটে একজোড়া সুখী পায়রার মত । অথবা একটি সুখী পায়রা ।
জাফরের মাথায় চিন্তার ভীড় জমেছে ।
বেশ পেছনের মেয়েটা অনেকক্ষণ ধরেই ওদের ফলো করছে । ব্যাপারটা তৃপ্তিকে বলে ভয় পাইয়ে দিতে চায় নি জাফর ।
এই মেয়ে ওদের পেছনে পেছনে ঘুরছে কেন ?
জাফর বেশ খ্যাতি পেয়েছে মাত্র দুই বইমেলাতেই । ওর লেখা থ্রিলার ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের আর কোন লেখককে । সমসাময়িক তো বটেই – পূর্বসূরীদেরও । কাজেই ভক্ত-নারীভক্তের অভাব নেই ।
ফেসবুকেও জাফর বেশ অ্যাকটিভ । কাজেই ওর চেহারা বাংলাদেশের অনেকেই চেনে । তাদের কেউ কাছে এসে অটোগ্রাফ চায় । আবার যাদের সে সাহস হয় না জাফর বিরক্ত হবে ভেবে তারা দূর থেকে কিছুক্ষণ ফলো করে চলে যায় ।
জাফর এসব অনুভূতি বেশ উপভোগই করে । মাঝে মাঝে বিরক্ত হয় না – তাও না ।
কিন্তু এই মেয়ের ফলো করার ধরণটা ভালো লাগছে না জাফরের ।
গত বছর একুশে ফেব্রুয়ারীতে মিথিলা খুন হয়েছিল রহস্যজনকভাবে ।
একটা বছর মাথা ঘামিয়েছে জাফর – কিন্তু বের করতে পারে নি সেই রহস্য । আজ আবার একুশে ফেব্রুয়ারীতে একটা মেয়েকে ফলো করতে দেখলে একটামাত্র চিন্তাই আসা স্বাভাবিক – তৃপ্তি কি নিরাপদ ?
মিথিলাকে খুন করেছিল যে – সে কি এই মেয়েটাই ? জেলাস ?
তৃপ্তি কি কি জানি বকে চলেছে । ওর কথার দিকে মনোযোগ দেয় না জাফর । একটা সিগারেট ধরায় ।
আড়চোখে তাকিয়ে দেখে বেশ পেছনে আনমনে সূর্য দেখতে থাকার অভিনয় করা মেয়েটাও ব্যাগ থেকে একটা সিগারেট বের করে ।
ভুল ভাবছে জাফর ? শুধুই ফ্যান ?
তাহলে ওর চোখের দৃষ্টিটাকে সুবিধের লাগছে না কেন ওর ?
‘ওহ মাই গড ! জাফর আহমেদ ! হি হিমসেলফ ! আই কান্ট বিলিভ মাই আইজ !’ চিল চিৎকারে ফিরে তাকায় জাফর ।
কিশোরী একটা মেয়ে ।
একহারা গড়ন । ফুলের মত চেহারা । এই মুহূর্তে ফুলটা বিস্ময়াভূত ।
‘আমি আপনার প্রতিটা লেখা পড়ি, জানেন ! ফেসবুকে, ব্লগে আর আপনার লেখা যে ম্যাগাজিনগুলো বের করে -’
তৃপ্তির চেহারা দেখে মনে হচ্ছে পারলে এই মেয়েটাকে কাঁচাই খেয়ে ফেলে !
তবে জাফর একটু হাসল শুধু । বিনয়ের হাসি ।
‘অতটা ভালোও কিন্তু লেখি না ।’ কোমল গলায় বলে ও তরুণীকে ।
‘ইশ ! আমি যদি আপনার মত ‘অতটা ভালো না’ গল্প লেখতে পারতাম !’ অবাক চোখে তাকিয়ে বলে কিশোরী, ‘আমাকে একটা অটোগ্রাফ দেবেন ? আমি অনীতা !’
ঝটপট একটা কলম ধরিয়ে দেয় ও জাফরকে ।
কিন্তু কাগজ কোথায় ?
কিশোরী শুধু নিজের জামার গলার নিচের অনাবৃত ফর্সা চামড়া দেখায় আঙ্গুলের ইশারায় । চোখে দুষ্টু হাসি ।
কলমের আলতো স্পর্শে একটা অটোগ্রাফ দিতেই হয় জাফরকে ।
অনীতা খুশিমনে চলে যাচ্ছে । চলে যাচ্ছে আর ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে জাফরের দিকে ।
কিন্তু জাফর ওদিকে তাকায় না আর ।
সিগারেট ফেলে দিয়ে পেছনের দিকে দৃষ্টি পড়তেই অবাক হয়ে যায় ও ।
সিগারেট ধরানো মেয়েটা নেই পেছনে কোথাও !


জাফরের বাসাতে ঢুকে নিজের ব্যাগটা আছড়ে ফেলে তৃপ্তি আরামদায়ক সোফাটার ওপর ।
মেয়েটার মেজাজ খারাপ জানে জাফর । শহরের বাইরে থেকে শুধু জাফরের সাথে দেখা করতেই এসেছিল ও – আজ রাত দশটাতে বাস ।
এখনও দুই ঘন্টা আছে । কাজেই সময়টুকু নিজের বাসাতেই নিয়ে এসেছে ও ।
তৃপ্তির রাগ উঠছে অন্য কারণে ।
জাফরকে ভালোবাসে ও । তবে নিজেও জানে এই ভালোবাসা একতরফা । জাফর সারাটা দিন একসাথে থাকলেও ভক্ত অথবা বন্ধুর সাথে যেভাবে কথা বলা উচিত তার বেশি বলে নি কিছুই । লেখক হলেও মানুষটা একেবারে নিপাট ভদ্রলোক ।
কিন্তু নদীর পাড় থেকে বাসা পর্যন্ত মাত্র আধ ঘন্টার দূরত্বে ছয়টা মেয়ে এসে অটোগ্রাফ নিয়ে গেছে রাস্তায় । তাও শরীরের বিভিন্ন স্থানে !
অসহ্যরকম বিরক্ত হয় তৃপ্তি । ছেলেটাকে যেন লুটে নেবে !
দেখতে পায় না ওর পাশে তৃপ্তি ছিল ?
বুকে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে তৃপ্তি ।
রাগের জন্য বুঝতে পারে নি – হঠাৎই খেয়াল করে জাফর নেই আশেপাশে । গেল কোথায় ছেলেটা ?
অতিথিকে বাসাতে ঢুকিয়েই নিরুদ্দেশ হয়ে যেতে হয় নাকি ?
‘জাফর ?’ আস্তে করে ডাকে তৃপ্তি ।
ওর কথার জবাবেই যেন বাসাটার প্রতিটা লাইট নিভে গেল !
ঘুটঘুটে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পায়ের নিচে অসীম শূন্যতা অনুভব করে তৃপ্তি ।
বুনো জন্তুর মত ফোঁস ফোঁস শব্দ হচ্ছে এই ঘরেই । আত্মা কেঁপে ওঠে তৃপ্তির ।
তবুও গলা শান্ত রাখার চেষ্টা করে বলে, ‘জাফর ? কোথায় আপনি ? মজা করাটা কি ঠিক হচ্ছে ?’
জবাবে কেউ ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে । পুরুষালী একজোড়া হাতের শক্তির কাছে হার মানে তৃপ্তি ।
জাফর কি অন্ধকারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওর কাছ থেকে কিছু আদায় করে নিতে চাচ্ছে ?
ক্লিক জাতীয় একটা শব্দের সাথে দুইহাতে ধাতব স্পর্শ পেতেই ভয়টা ফিরে আসে তৃপ্তির মনে । জাফর ওর হাতে হ্যান্ডকাফ পড়াচ্ছে কেন ? বিকৃত যৌনাচারী ? পরক্ষণেই আরেকটা চিন্তা ওকে আচ্ছন্ন করে ফেলে ।
লেখক জাফরকে সে কতটুকু চেনে মানুষ হিসেবে ?
গত বছর লেখক জাফরের বাসার কাছ থেকে মিথিলা নামের যে মেয়েটার লাশ উদ্ধার করা হয় সে ব্যাপারে ভোলে নি তৃপ্তি ।
প্রথম বইটা বের হয়ে গেছে – আর সেটা মাত্রাতিরিক্ত হিট । গোটা বাংলাদেশ জাফরের সাপোর্টে ছিল তখন । পুলিশ বাহিনীকে একেবারে হেনস্থা করে ছেড়েছিল জনতা মানী লোকের মানহানির চেষ্টা করায় ।
ওরা কি ভুল করেছিল ? খুনটা জাফরই করে নি তো ?
হাঁটুর নিচে একটা হাত চলে যায় তৃপ্তির । পাঁজাকোলা করে ওকে উঠিয়ে নিচ্ছে জাফর ।
হ্যান্ডকাফ পড়া তৃপ্তি আজ বাঁধা দেওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে ।
অবসন্ন ভঙ্গীতে ও এলিয়ে পড়ে জাফরের দুই বাহুর মাঝে ।
*
চোখ ধাঁধানো তীব্র আলো চারপাশে ।
চোখ কুঁচকে তাকায় তৃপ্তি সামনে । একটা সিরিঞ্জের সুচের ফুটো – তারপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলা – এটুকুই ছিল ওর শেষ স্মৃতি । তবে সবই ছিল অন্ধকারে ।
এখন সামনে আলোতে হেঁটে বেড়াচ্ছে একজন মানুষ ।
চোখ কয়েকবার পিট পিট করে তৃপ্তি বোঝে জাফরই সেটা । তবে পরক্ষণেই নিজের অবস্থার প্রতি সচেতন হয় ।
ঘরের মাঝখানে প্রায় ঝুলে আছে ও ।
হাত দুটো ওপরে সিলিং থেকে ঝোলানো দড়িতে এভাবে বাঁধা যাতে হাত নামানোর কোন উপায় ওর নেই ।
পায়ের কাছেও দুটো আংটার সাথে শক্ত নাইলনের দড়ি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে ওকে ।
‘জাফর, কি হচ্ছে এসব ?’
ফিরেও তাকায় না বিখ্যাত লেখক এই প্রশ্নে ।
‘জাফর ?’
এবার তাকায় অবশ্য । এগিয়ে আসে সামনে ।
‘আমাকে বলছেন ?’ বিনম্র কন্ঠের আগের জাফরকে ফিরে পেতে ভয় কিছুটা কমে তৃপ্তির ।
‘কি করছেন আপনি ? আমাকে নামান । জাফর, প্লিজ !’
‘কিন্তু ...’ একমুহূর্ত দ্বিধাগ্রস্থ দেখায় ওকে, ‘আমার নাম তো জাফর নয় !’
চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে তৃপ্তি ।
‘আমি মারুফ । মারুফ হায়দার । আমাকে জাফর কেন বলছেন ?’ প্রশ্ন করে যায় জাফর ।
তৃপ্তি এখনও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে । এই মানুষটার ফেসবুক আইডি ‘জাফর আহমেদ’ । ব্লগে লেখে একই নামে । ম্যাগাজিনে তার লেখা বের হয় একই নামে । বই বের হয়েছেও জাফর আহমেদ নামে । তাহলে নিজের নাম কেন মারুফ হায়দার বলবে এখন ?
ঢোক গেলে তৃপ্তি । জাফরের মাথায় তাহলে সমস্যা আছে । লেখক মানুষ । একটু আধটু সমস্যা থাকতেই পারে ।
কিন্তু মিথিলার খুনী এর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি । তৃপ্তির বড় বড় চোখে ফুটে ওঠে ভয় । ওকে কথা বলিয়ে সময় নষ্ট করাতে হবে !
‘আমাকে কোথায় এনেছেন ?’ জানতে চায় তৃপ্তি ।
‘ও । এটা জানতে চান ? আমার বাসার বেজমেন্টে একটা গোপন ঘর আছে । সেখানেই আনলাম আপনাকে ।’ নম্র গলাতেই বলছে জাফর । স্বস্তি পাবে তৃপ্তি এতে – নাকি ভয় পাবে – বুঝে ওঠে না ও ।
‘আমাকে বাঁধন কেটে নামাবেন ? লাগছে খুব ।’ অনুনয় করে তৃপ্তি ।
‘নামানো তো যাবে না আপনাকে ।’
একেবারেই হঠাৎ ভয়ের সাগরে ডুবে যায় তৃপ্তি – জাফরের চোখের দিকে চোখ পড়োতেই । কি ঠান্ডা মাথাতেই না আছে লোকটা । সামনে একটা মেয়েকে হাত বেঁধে প্রায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে – এই দৃশ্যে ওর চেহারাতে কোন ভাবই ফুটে ওঠে না !
‘কি করবেন আমাকে নিয়ে ? ধর্ষণ করতে চান ?’
‘ধর্ষণ ? না । কি যে বলেন ? ছি ছি ।’ লজ্জা পেয়ে যায় জাফর ।
একটুও নিশ্চিন্ত হতে পারে না তৃপ্তি তবুও ।
জাফর ওর পেছনে চলে যাচ্ছে ।
ঘাড় ঘুরিয়ে যা দেখে তৃপ্তি – ওর হৃৎপিন্ডের গতি বেড়ে যায় তিনগুণ !
পেছনদিকের দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটা টেবিল । তাতে সুন্দর করে সাজানো আছে ছুরির এক বিশাল কালেকশন । সেই সাথে তৃপ্তির নাম না জানা বেশ কিছু অস্ত্র ।
জাফর গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে এগিয়ে যাচ্ছে ওদিকে । একটা করে ছুরি তুলে নেয় আর নামায় ।
গানটা পরিচিত । ‘আমি বাংলায় গান গাই’ – এবং বাংলাতেই গাইছে জাফর ।
তৃপ্তি নিজের গাল বেয়ে গরম পানির অস্তিত্ব অনুভব করে । মুখে পড়তে নোনতা একটা স্বাদও পায় ও ।
কাঁদছে মেয়েটা ।
নিজের অসহায়ত্ব ছাপিয়ে যখন আবারও মুখ খোলে মেয়েটা – গলাটা ওর ভেঙ্গে গেছে ।
‘আমার কি দোষ ? আমার কি দোষ বলুন ?’
ছুরি দিয়ে তৃপ্তির চমৎকার আকাশী রঙের ফতুয়াটা পিঠ বরাবর কেটে দেয় জাফর । তারপর মুখ খোলে ।
‘ফেসবুকে তোমার স্ট্যাটাস আমি পড়েছি ।’
‘আপনি মানে কে ? জাফর আহমেদ না মারুফ রায়হান ?’
‘দুইজনই ।’ কথার ফাঁকে বক্ষাবরণীর পেছনের বাঁধন কেটে ফেলে জাফর ।
শিওরে ওঠে তৃপ্তি ।
‘প্লিজ, স্টপ ইট ! স্টপ ইট ফর গডস সেক ! প্লিজ ...’
মেয়েটার আকুতিতে কান না দিয়ে ফতুয়ার দুই কাঁধ কেটে ফেলে জাফর । আলগোছে পোশাক দুটো মাটিতে পড়ে যায় এবার ।
‘আপনার সব স্ট্যাটাস হিন্দীতে থাকে । কমেন্ট করেন হিন্দীতে । ব্যাপারটা কি বলবেন ? নিজের ভাষা কি ফেসবুক চালাতে যথেষ্ট বলে মনে হয় না ?’
জাফর এগিয়ে এসে সামনে দাঁড়ায় অর্ধনগ্ন মেয়েটার । ওর চোখ ধিকিধিকি জ্বলছে ।
‘আমি লেখালেখি করি কেন জানেন ? খ্যাতির মূল্য আমার কাছে নেই । আমি শুধু চাই বাংলা ভাষাকে কিছু দিয়ে যেতে । সামান্য কিছু । আর আপনাদের মত মানুষদের আমার দেখা লাগে – যারা ইচ্ছে করে বাংলাভাষাকে অবহেলা করছে । হিন্দী বলে নিজের স্মার্টনেস প্রকাশ করছে !’
আর কিছু না বলে নিজেকে সামলে নেয় জাফর ।
আবার তৃপ্তির পেছনে চলে যায় । ফর্সা পিঠটাকে ও এখন একফালি সাদা কাগজ ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছেনা ।
অথবা মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের একটা খালি পেইজ !
একটা বড় সাইজের কাঁচি তুলে এনে মেয়েটার দুই কাঁধের মাঝের চামড়াটা শক্ত করে ধরে জাফর । একটু টেনে এনে কেটে ফেলে চামড়াটুকু ।
কি আশ্চর্য ! কাটা মাত্র চামড়াটা বেশ ছোট হয়ে ওর হাতে চলে আসে ।
সেই সাথে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসা রক্ত ।
এবার একটা ফাঁকা জায়গা তো পাওয়া গেল ! ওদিক দিয়ে ছুরিটা ঢুকিয়ে দেয় জাফর । মেয়েটার ভেতরে কতটা হিন্দীপ্রেম লুকিয়ে আছে তা তো চিড়ে না দেখলে বোঝা যাবে না !
তৃপ্তি চিৎকার করছে অসহ্য যন্ত্রণায় ।
বাবা-মা পর্যন্ত একটিবারও ওর গায়ে হাত তোলে নি । তবে আজ জাফরের শো-টাইম ।
লাল রক্তগুলো তৃপ্তির ধবধবে পিঠটাকে ধীরে ধীরে লাল করে দিচ্ছে । এবার সেই রক্তে আঙ্গুল ডুবিয়ে তৃপ্তির সামনে আসে জাফর । হাতের আঙ্গুল দিয়ে ওর পেটে ধীরে ধীরে লেখতে চায় ‘বাংলাকে ভালোবাসি’ ।
কিন্তু হাতের আঙ্গুলে আর কফোঁটা রক্ত আসে ?
আবার পিঠের ক্ষতে হাত ডুবিয়ে দিতেই তৃপ্তির শরীর মুচড়ে ওঠে প্রচন্ড যন্ত্রণায় । তার মাঝেই পেটে বাকিটুকু লেখে ফেলে জাফর ।
‘প্লিজ ...’ গলা নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে তৃপ্তির ।
জাফর বুঝতে পারে – এভাবে চললে যে কোন সময় জ্ঞান হারাবে মেয়েটা । হাতে বেশি সময় নেই । ওকে জ্ঞান হারাতে দেওয়া যাবে না ।
পিঠের দিকে চলে এসে ছোট মাপের একটা ছুরি এনে দ্রুত পিঠের চামড়া কেটে লেখতে থাকে ও, ‘হিন্দীকে ঘৃণা করি’ ।
তীব্র ব্যাথায় নিস্তেজ ভাবটা চলে যায় তৃপ্তির । ছটফট করে উঠে সোজা হতে চায় ও । কিন্তু হাত-পা যে বাঁধা !
জাফরও মহা বিরক্ত । এই ‘ঘৃ’ জিনিসটা এত পেঁচানো কেন ? মানুষের চামড়া কেটে লেখতে বেশ ঝক্কি দেখা যাচ্ছে ।
আর মেয়েটার চিৎকারও যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে । অসহ্যরকম যন্ত্রণা করল দেখি এই মেয়ে ! শালী চুপ করে না কেন ? হিন্দী ভাষা নিয়ে পিএইচডি করার সময় কি মনে ছিল না এসব ?
ক্রোধে উন্মত্ত জাফর মেয়েটার পিঠ ঝাঁঝরা করে দিতে থাকে একের পর এক আঘাতে ।
চেঁচাতে চেঁচাতে গলা ভেঙ্গে যায় তৃপ্তির ।
তারপর আস্তে করে মাথা বুকে ঝুলে পড়ে ওর । রাত দশটার বাসটা আর ধরা সম্ভব হবে না ওর জন্য কোনদিনই !
এই সময় দরজাতে প্রচন্ড জোরে লাথি হাঁকায় কেউ ।
চমকে উঠে সেদিকে তাকায় জাফর । মুখে, চুলে রক্ত ।
পুলিশ এসে গেছে ?
*
ঘরটা থেকে বের হওয়ার কোন উপায় নেই ।
ধীরে ধীরে দরজাটা খুলে ফেলে জাফর ।
সকালের ফলো করতে থাকা মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে ।
মাথা ঝোঁকায় জাফর । বুঝে গেছে সব ।
‘গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্য ।’ বিড় বিড় করে বলে ও ।
ঠিকই শুনতে পায় মেয়েটা । মাথা নাড়ে শুধু একটু ।
‘তিন মিনিটের মাঝে বেড়িয়ে যেতে হবে তোমাকে , মারুফ । ইউ হ্যাভ অনলি থ্রি মিনিটস ।’
‘মানে ?’ বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে জাফর ।
‘জেল বা ফাঁসী তোমার জন্য না মারুফ । বাংলা ভাষা তোমার কাছে আরও অনেক কিছু ডিজার্ভ করে । এই সময় থামতে পারো না তুমি । গেট লস্ট । ইমিডিয়েটলি ।’
‘তৃপ্তির বডিটা ... ’
‘মাগীকে আমি সামলাচ্ছি ।’ কথা শেষ করতে দেয় না ওকে মেয়েটা । টুক করে জাফরের ঠোঁটে একটা চুমু খেয়ে এগিয়ে যায় লাশটার দিকে । বাংলা ভাষার স্বার্থে আজ এখানে আরেকটা আত্মত্যাগ হবে ।
ছুটে বের হয়ে যায় মারুফ । মেয়েটাকে কেন জানি কিছুতেই মনে করতে পারে না ও । কোথায় দেখেছে ওকে ? আগে কোথায় দেখেছে ?
বাড়ি থেকে বেশ কিছুদূর চলে এসেছে জাফর – দেখতে পায় একঝাঁক পুলিশের গাড়ি তারস্বরে হুইসেল বাজিয়ে ছুটে চলেছে ওর বাসার দিকে । একটা দীর্ঘশ্বাস চাপে জাফর । মেয়েটা বের হতে পেরেছে তো ?
ঝোপঝাড় ভেঙ্গে ছুটছে মারুফ হায়দার ।
বাবা-মায়ের আকিকা দেওয়া এই নামটা জনমন থেকে বিস্মৃত হয়েছে বহু আগেই । ফেসবুক আইডি খোলার সময় অল্পবয়েসে নামটা করে নিয়েছিল জাফর আহমেদ । সেই থেকে এই নামেই বেশি পরিচিত ও ।
ছুটতে ছুটতেই একচিলতে হাসি ফুটে ওঠে জাফরের মুখে । পরের বইটার জন্য প্লট পেয়ে গেছে ও ।


তৃপ্তির সারা শরীরে যেখানে ইচ্ছা ছুরি গাঁথাচ্ছে ঋতু ।
বাড়ির চারপাশে পুলিশের হুইসেল শোনার পরও থামে না মেয়েটা । গাঁথিয়েই যায় ছুরিটা ।
মারুফ ছেলেটা কিভাবে কিভাবে যেন পাল্টে গেল ! লেখা নিয়ে অবসেশনে ভুগত ছেলেটা । আর ঋতুরও ঠিক পছন্দ ছিল না সময়গুলো ওকে না দিয়ে মারুফের লেখার পেছনে দেওয়ার ব্যাপারটা ।
অবশ্য যেই মুহূর্তে মারুফ জানতে পারে লেখক মারুফকে ঋতু চায় না – সেই মুহূর্তেই সরে দাঁড়ায় ওর জীবন ছেড়ে ।
বইমেলায় মারুফের প্রথম বইটা বের হওয়ার পর থেকেই নিজের ভুলটা বোঝে ঋতু । ছেলেটাকে সাপোর্ট দেওয়া উচিত ছিল । তাহলে হয়ত আজ মারুফ হায়দারকে জাফর আহমেদে পাল্টে যেতে দেখতে হত না ওকে ।
নিজের কোন সত্ত্বাটা কখন অ্যাকটিভ থাকে এটাই বোঝে না ছেলেটা !
পড়ে থাকা মেয়েটার ওপর সব ক্ষোভ আর রাগ ঝেড়ে ফেলতে চায় ঋতু একবুক অতৃপ্তি নিয়ে ।
হুড়মুড় করে বেজমেন্টে ঢুকে যায় ডিটেক্টিভ সাইফুদ্দীন । মাঝপথে লেখক ব্যাটা হুট করে কোনদিকে চলে গিয়েছিল ট্রেইল পান নি তাই দেরী হয়ে গেল । মনে মনে প্রমাদ গুনছিলেন তিনি – বেজমেন্টে ঢুকে অস্ত্র উঁচিয়ে দেখলেন ভয়টা সত্য ছিল ।
‘তুমি ?’ থমকে যান ডিটেক্টিভ সাইফুদ্দীন – আজ বিকেলেই যাকে কানা ফকিরের ছদ্মবেশে দেখা গেছিল নদীর তীরে । কিন্তু এখন সেসব মেকআপ নেই তাঁর মুখে ।
‘কে স্যার ?’ হঠাৎ থমকে যাওয়া বসের জন্য সামনের দিকটা দেখতে পাচ্ছে না সহকারী গোয়েন্দা রেদওয়ান ।
একটু সরে তাকে জায়গা করে দিতেই থমকে যায় তরুণ গোয়েন্দাও ।
তাদের ধারণা আগাগোড়াই ভুল ছিল । একুশে ফেব্রুয়ারী করা খুনদুটো লেখক জাফর আহমেদের ছিল না ।
খুনগুলো করেছে তার এক্স-গার্লফ্রেন্ড ঋতু !
দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার দিকে এগিয়ে যায় ডিটেক্টিভ সাইফুদ্দীন । হাতে হ্যান্ডকাফ ।
পেছন থেকে তাকে কাভার দেয় সহকারী রেদওয়ান ।
পুলিশ বাহিনীর লোকেরাও নেমে এসেছে বেজমেন্টে ।
একটু দূরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে ওরা ।
বিনা প্রতিবাদে হাতকড়া হাতে তুলে নেয় ঋতু ।
বাইরে বের হতে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড় বিড় করে বলে শুধু, ‘বাংলাকে ভালোবাসি ।’
Read More »