মিজান সাহেব চায়ের কাপ নিয়ে বারান্দায় বসে আছেন ।
তবে চায়ের কাপটা যেন ‘ফোর্থ সাবজেক্ট’-এর ভূমিকা পালন করছে ।
তিনি অপেক্ষা করছেন তাঁর বড় ছেলের বের হওয়ার ।
রোজ সকাল দশটায় ইমরান বেরিয়ে পড়ে । রাত নয়টা বাজার আগে আর ফেরে না ।
তিনি অপেক্ষা করছেন তাঁর বড় ছেলের বের হওয়ার ।
রোজ সকাল দশটায় ইমরান বেরিয়ে পড়ে । রাত নয়টা বাজার আগে আর ফেরে না ।
বেশ ক’টা দিন সহ্য করে আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিজান সাহেব ।
আজকেই সাপকে নাচ শেখাতে হবে ।
আজকেই সাপকে নাচ শেখাতে হবে ।
বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় না মিজান সাহেবকে ।
চায়ের কাপ শীতল হওয়ার আগেই ইমরানকে বের হতে দেখা গেল ।
চুলে আজকাল কি যেন দেয় ছেলেটা – চুল দাঁড়িয়ে থাকে তাতে ।
আড়চোখে একবার দেখে নেন ছেলেকে । বেশ লাগছে দেখতে ।
চায়ের কাপ শীতল হওয়ার আগেই ইমরানকে বের হতে দেখা গেল ।
চুলে আজকাল কি যেন দেয় ছেলেটা – চুল দাঁড়িয়ে থাকে তাতে ।
আড়চোখে একবার দেখে নেন ছেলেকে । বেশ লাগছে দেখতে ।
পরক্ষণেই চোখ ঘুরিয়ে নেন মিজান সাহেব ।
বাবার চোখের নজর বড়ই খারাপ জিনিস । লেগে গেলে ছেলের সৌন্দর্য্য উবে যেতে পারে ।
বাবার চোখের নজর বড়ই খারাপ জিনিস । লেগে গেলে ছেলের সৌন্দর্য্য উবে যেতে পারে ।
‘ইমরান !’ চওড়া উঠোনটা প্রায় পেরিয়েই গেছিল, বাবার ডাক শুনে থমকে যায় ইমরান ।
‘জ্বী বাবা ।’ ঘুরে বাবার সামনে আসে ইমরান ।
‘বের হচ্ছিস ?’
‘জ্বী বাবা ।’
‘দেশের খবর কিছু রাখিস ?’
ইমরান নিরুত্তর থাকে ।
‘জ্বী বাবা ।’ ঘুরে বাবার সামনে আসে ইমরান ।
‘বের হচ্ছিস ?’
‘জ্বী বাবা ।’
‘দেশের খবর কিছু রাখিস ?’
ইমরান নিরুত্তর থাকে ।
‘প্রতিদিন মানুষ মরছে কত খোঁজ রাখিস কিছু ?’
ইমরান এবারও কিছু বলে না ।
‘দেশটার কিছু রাখল না আর । এখন আর্মি নামিয়েছে ! আরে যে দেশের মানুষ নিজের ভালো বোঝে না সে দেশে কি আর আর্মি নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় ? একটা নির্বাচনের জন্য আর কত মানুষ মরবে । সামনে তো ভোট দেওয়ার লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না ।’
ইমরান তবুও নিরুত্তর থাকে ।
ইমরান এবারও কিছু বলে না ।
‘দেশটার কিছু রাখল না আর । এখন আর্মি নামিয়েছে ! আরে যে দেশের মানুষ নিজের ভালো বোঝে না সে দেশে কি আর আর্মি নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় ? একটা নির্বাচনের জন্য আর কত মানুষ মরবে । সামনে তো ভোট দেওয়ার লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না ।’
ইমরান তবুও নিরুত্তর থাকে ।
‘কোথায় যাচ্ছিস ?’
‘তাহেরের বাসায় । কার্ড খেলতে ।’
‘ভার্সিটিতে না পরীক্ষা চলছিল ?’
‘ভার্সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, বাবা ।’
‘তো বাসায় বসে কিছু পড়াশোনা তো চালাতে পারিস ।’
‘গত কয়েকদিন তাই করছিলাম ।’
‘তাড়াতাড়ি ফিরবি ।’ ছেলে যাবেই বুঝতে পারেন মিজান সাহেব ।
‘আচ্ছা, বাবা ।’
‘তাহেরের বাসায় । কার্ড খেলতে ।’
‘ভার্সিটিতে না পরীক্ষা চলছিল ?’
‘ভার্সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, বাবা ।’
‘তো বাসায় বসে কিছু পড়াশোনা তো চালাতে পারিস ।’
‘গত কয়েকদিন তাই করছিলাম ।’
‘তাড়াতাড়ি ফিরবি ।’ ছেলে যাবেই বুঝতে পারেন মিজান সাহেব ।
‘আচ্ছা, বাবা ।’
ছেলে বেড়িয়ে যেতেই আবারও দুশ্চিন্তা গ্রাস করে মিজান সাহেবকে ।
এত বড় ছেলেকে তো আর আটকে রাখা যায় না ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে ছেলেটা । দ্বিতীয় বর্ষে উঠতে না উঠতেই দেশজুড়ে এই ঝামেলা শুরু হয়ে গেল !
সারা দেশ স্থবির – কোন ভার্সিটিতেই ক্লাস চলছে না ।
এত বড় ছেলেকে তো আর আটকে রাখা যায় না ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে ছেলেটা । দ্বিতীয় বর্ষে উঠতে না উঠতেই দেশজুড়ে এই ঝামেলা শুরু হয়ে গেল !
সারা দেশ স্থবির – কোন ভার্সিটিতেই ক্লাস চলছে না ।
তরুণ ছেলেপিলে আবার আর্মিদের বিরুদ্ধে লেগেছে ।
কে কোন রাজনৈতিক দলের সেটা কথা না – তাদের ঢাকার রাস্তা থেকে আর্মি সরানো চাই ।
কে কোন রাজনৈতিক দলের সেটা কথা না – তাদের ঢাকার রাস্তা থেকে আর্মি সরানো চাই ।
বুক থেকে সাবধানে একটা নিঃশ্বাস বের করে দেন মিজান সাহেব ।
দৃপ্ত পায়ে গলি ধরে এগিয়ে যায় ইমরান ।
ছয় ফিট উচ্চতার সাথে চমৎকারভাবে মানিয়ে গেছে ওর স্বাস্থ্য ।
বুকের কাছে একটা বোতাম খোলা শার্টের – ঔদ্ধত্বের পরিবর্তে তা যেন আরেকটু আভিজাত্য এনে দিয়েছে ওর মাঝে ।
ঢাকা শহরটাকে তামা তামা বানিয়ে ফেলেছে আর্মি নামিয়ে ।
উটকো জনতা, মাথা মোটা জনতা নির্বাচন নিয়ে একটু বেশি-ই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিল ।
সরকারেরই বা দোষ কি ?
উটকো জনতা, মাথা মোটা জনতা নির্বাচন নিয়ে একটু বেশি-ই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিল ।
সরকারেরই বা দোষ কি ?
আর্মি নামতেই সবাই ঠান্ডা ।
এখন চেঁচাও ‘নিরপেক্ষ সরকার গঠন’ ‘নিরপেক্ষ সরকার গঠন’ করে !
সবার মুখ একেবারে সিলাই হয়ে গেছে ।
এখন চেঁচাও ‘নিরপেক্ষ সরকার গঠন’ ‘নিরপেক্ষ সরকার গঠন’ করে !
সবার মুখ একেবারে সিলাই হয়ে গেছে ।
আর তরুণ প্রজন্মের চোখে আর্মি হয়েছে বিষ ।
বড় রাস্তার মোড়েই আর্মির একটা টহল ট্রাক দাঁড়িয়ে ।
বড় রাস্তার মোড়েই আর্মির একটা টহল ট্রাক দাঁড়িয়ে ।
সেদিকে তাকায় ইমরান ।
ওর চোখে অবশ্য কোন রকম ঘৃণা দেখা যায় না । একটা বন্ধুভাবাপন্ন মুখ তুলে তাকায় শুধু ।
ওর চোখে অবশ্য কোন রকম ঘৃণা দেখা যায় না । একটা বন্ধুভাবাপন্ন মুখ তুলে তাকায় শুধু ।
রাইফেলের মাজল শক্ত করে চেপে ধরা দুই আর্মির মুখে একটা পরিতৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে ।
পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইমরান বুঝতে পারে ওদের মাঝে ‘কেন ইমরানের মত ছেলেরা আর্মিতে যোগ দেয় না’ তা নিয়ে ছোট খাট তর্ক চলছে ।
পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইমরান বুঝতে পারে ওদের মাঝে ‘কেন ইমরানের মত ছেলেরা আর্মিতে যোগ দেয় না’ তা নিয়ে ছোট খাট তর্ক চলছে ।
অন্য কোন দিন হলে মুচকি একটা হাসি ফুটত ওর মুখে ।
আজ ফুটছে না ।
ঘুরেফিরে শুধু রিমির কথা মনে পড়ছে ।
আজ ফুটছে না ।
ঘুরেফিরে শুধু রিমির কথা মনে পড়ছে ।
রিমি এখন কোথায় আছে ? কেমন আছে ?
✭✭✭
রিমির সাথে ওর শেষ দেখা রিমিদেরই বাসার ছাদে ।
রিমির সাথে ওর শেষ দেখা রিমিদেরই বাসার ছাদে ।
ছোটবেলা থেকে একসাথে বেড়ে উঠেছে ওরা । রিমিদের পরিবারের প্রত্যেকে ইমরানকে বেশ ভালো মতই চেনে ।
তবে সম্পর্কের পরিবর্তনটা একেবারেই আচমকা হয় ।
ঠিক একটি মাস আগে রিমি ওকে একদিন সিঁড়িঘরে জড়িয়ে ধরেছিল ।
মুখে কিছু না বললেও সেই স্পর্শটা যেন অনেক না বলা কথার কাজ করেছিল ।
তবে সম্পর্কের পরিবর্তনটা একেবারেই আচমকা হয় ।
ঠিক একটি মাস আগে রিমি ওকে একদিন সিঁড়িঘরে জড়িয়ে ধরেছিল ।
মুখে কিছু না বললেও সেই স্পর্শটা যেন অনেক না বলা কথার কাজ করেছিল ।
মাঝে যাওয়া আসা কমিয়ে দেয় ইমরান ।
এমনটা নয়, রিমির প্রতি ওর আগ্রহ ছিল না – বরং উল্টোটাই এর কারণ ।
এমনটা নয়, রিমির প্রতি ওর আগ্রহ ছিল না – বরং উল্টোটাই এর কারণ ।
দেশের পরিস্থিতির অবনতি দেখে একবার ওর সাথে দেখা করতে যায় ইমরান গত সপ্তাহে ।
ওদের ছাদটা সুন্দর ।
আশেপাশে তেমন বাড়িঘর নেই । জমির মালিকেরা হয়ত জমিগুলো নিয়ে ভিন্ন কোন পরিকল্পনা করেছে ।
অনেক দূরে পর্যন্ত দৃষ্টি চলে যায় ।
আশেপাশে তেমন বাড়িঘর নেই । জমির মালিকেরা হয়ত জমিগুলো নিয়ে ভিন্ন কোন পরিকল্পনা করেছে ।
অনেক দূরে পর্যন্ত দৃষ্টি চলে যায় ।
ছাদের রকিং চেয়ারটায় বসে সেটাই দেখছিল ইমরান ।
আচমকা কেউ পেছন থেকে চোখ চেপে ধরে ওর ।
কোমল হাত দুটো রিমি ছাড়া আর কারও হতে পারে না । ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা ফোটে ইমরানের মুখে ।
আচমকা কেউ পেছন থেকে চোখ চেপে ধরে ওর ।
কোমল হাত দুটো রিমি ছাড়া আর কারও হতে পারে না । ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা ফোটে ইমরানের মুখে ।
‘তুই একটা উচ্চপর্যায়ের পাগলি – তোকে কি কেউ সেটা বলেছে ?’ হাত সরানোর চেষ্টা না করেই বলে ইমরান ।
‘হুম বলেছে ।’ চোখ ছেড়ে দেয় রিমি, ‘একটা উচ্চ পর্যায়ের গাধা ।’
‘তোর খুব সাহস হয়েছে, নারে ?’ রিমির চুল টেনে দেয় ইমরান ।
‘এ মা ! আমাকে মারছিস কেন ?’ বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যাওয়ার অভিনয় করে রিমি । ‘সাহস তো হয়েছে বিজয়দার ।’
‘ভাইয়া আবার কি করল ?’ অবাক হয় এবার ইমরান ।
‘আর্মিদের সাথে উনি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ।’ হেসে ফেলে রিমি ।
‘দারুণ তো ।’ হাসি ফোটে ইমরানের মুখেও ।
‘হুম বলেছে ।’ চোখ ছেড়ে দেয় রিমি, ‘একটা উচ্চ পর্যায়ের গাধা ।’
‘তোর খুব সাহস হয়েছে, নারে ?’ রিমির চুল টেনে দেয় ইমরান ।
‘এ মা ! আমাকে মারছিস কেন ?’ বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যাওয়ার অভিনয় করে রিমি । ‘সাহস তো হয়েছে বিজয়দার ।’
‘ভাইয়া আবার কি করল ?’ অবাক হয় এবার ইমরান ।
‘আর্মিদের সাথে উনি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ।’ হেসে ফেলে রিমি ।
‘দারুণ তো ।’ হাসি ফোটে ইমরানের মুখেও ।
বিজয় ভাইটা একটু পাগলাটে টাইপের । রিমির বড় ভাই ।
মাত্র চার বছরের বড় যদিও ।
মাত্র চার বছরের বড় যদিও ।
‘তা তুই কোথায় কোথায় লুকিয়ে থাকিস বল তো ?’ ঘাড় সামান্য বাঁকিয়ে ইমরানের দিকে তাকিয়ে থাকে রিমি । বড় বড় চোখ দুইটাতে চোখ রেখে ইমরানের বুকের ভেতরটা ধকধক করে শুধু !
‘ভার্সিটির কাজে ব্যাস্ত ছিলাম রে ।’
‘ও ! নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িস দেখে এখন ব্যাস্ততা দেখাচ্ছিস । তা তো দেখাবি-ই ! সত্য করে বল তো ।’
‘কি সত্যি করে বলব ?’ অবাক হওয়ার ভান করে ইমরান ।
‘ওইদিন তোকে জড়িয়ে ধরায় তুই ভয়ে এ বাসায় আর আসিস নি ।’ মুখ টিপে ধরে রিমি ।
‘এহ । তোকে ভয় পাওয়ার কি আছে ?’
‘ভয় না পেলে বল ?’
‘কি বলব ?’
‘তুইও আমাকে ভালোবাসিস ।’
‘অ্যাই তোর মাথায় আর কিছু থাকে না এগুলো ছাড়া ?’ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ইমরান ।
‘উঁহু’, দুষ্টুমি ঝিলিক দেয় রিমির চোখের তারায় । ‘তোকে দেখলে আর কিছু থাকে না এগুলো ছাড়া ।’
‘ইশ ! বলেছে তোকে !’ বিব্রতভাবটা কাটানোর চেষ্টা করে ইমরান এবার ।
‘আমাকে কি বলবে ? তোকে যে একটা প্রশ্ন করেছি – সেটার উত্তর দিস না কেন ?’
‘তোকে ভালোবাসলে কি করবি ?’ পালটা প্রশ্ন করে ইমরান ।
‘আগে স্বীকার করে দ্যাখ তোর আমি আজকে কি করি ! ভালোবাসিস আমাকে ?’ রীতিমত হুমকি দেয় রিমি ।
পুরুষালি জেদ ওঠে এবার ইমরানের ।
‘বাসি । অনেক ।’
‘ও ! নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িস দেখে এখন ব্যাস্ততা দেখাচ্ছিস । তা তো দেখাবি-ই ! সত্য করে বল তো ।’
‘কি সত্যি করে বলব ?’ অবাক হওয়ার ভান করে ইমরান ।
‘ওইদিন তোকে জড়িয়ে ধরায় তুই ভয়ে এ বাসায় আর আসিস নি ।’ মুখ টিপে ধরে রিমি ।
‘এহ । তোকে ভয় পাওয়ার কি আছে ?’
‘ভয় না পেলে বল ?’
‘কি বলব ?’
‘তুইও আমাকে ভালোবাসিস ।’
‘অ্যাই তোর মাথায় আর কিছু থাকে না এগুলো ছাড়া ?’ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ইমরান ।
‘উঁহু’, দুষ্টুমি ঝিলিক দেয় রিমির চোখের তারায় । ‘তোকে দেখলে আর কিছু থাকে না এগুলো ছাড়া ।’
‘ইশ ! বলেছে তোকে !’ বিব্রতভাবটা কাটানোর চেষ্টা করে ইমরান এবার ।
‘আমাকে কি বলবে ? তোকে যে একটা প্রশ্ন করেছি – সেটার উত্তর দিস না কেন ?’
‘তোকে ভালোবাসলে কি করবি ?’ পালটা প্রশ্ন করে ইমরান ।
‘আগে স্বীকার করে দ্যাখ তোর আমি আজকে কি করি ! ভালোবাসিস আমাকে ?’ রীতিমত হুমকি দেয় রিমি ।
পুরুষালি জেদ ওঠে এবার ইমরানের ।
‘বাসি । অনেক ।’
ঝট করে ওর ঠোঁটে একটা চুমু খায় রিমি ।
হতভম্ব ইমরানকে ছাদে রেখে হাসতে হাসতে নেমে যায় নিচে ।
*
হতভম্ব ইমরানকে ছাদে রেখে হাসতে হাসতে নেমে যায় নিচে ।
*
তারপর ? রিমিটা কোথায় গেল ?
বন্ধুর বাসা থেকে একরাত পরে ফিরে এসে বিজয়দাই বা কেন পাগল হয়ে গেল ?
বন্ধুর বাসা থেকে একরাত পরে ফিরে এসে বিজয়দাই বা কেন পাগল হয়ে গেল ?
ভাবনার জগত থেকে বাস্তবে ফিরে আসে ইমরান ।
তাহেরের বাসা দেখা যাচ্ছে এখান থেকে ।
বিশাল গ্যারেজে আজ একটা মাজদা দেখতে পায় ও । ওটার পাশ কাটিয়ে দোতলায় উঠে পরে সরাসরি ।
বিশাল গ্যারেজে আজ একটা মাজদা দেখতে পায় ও । ওটার পাশ কাটিয়ে দোতলায় উঠে পরে সরাসরি ।
তাহের, জুয়েল, রানা, গৌরব আর ফরিদ – প্রত্যেকেই উপস্থিত ।
ইমরানকে দেখে খুশি হয়ে ওঠে ওরা ।
ইমরানকে দেখে খুশি হয়ে ওঠে ওরা ।
‘আজকের গেমপ্ল্যান আরও নিখুঁত ।’ হাসিমুখে তাহের জানায় । ‘ভীষণ মজা পাবি ।’
‘মজা না রে । সাফল্য পাব তো ?’ চিন্তিত মুখে জানতে চায় ইমরান । ‘এক জায়গা নিয়ে বেশি দিন পরে থাকতে ভালো লাগে না ।’
‘সব কিছু চলে এসেছে ।’ গৌরবের গর্বিত মুখ দেখে মনে হয় ও একাই এনেছে সব । ‘আর আজ আমাদের সাথে নতুন একজন যোগ দিয়েছেন । তুই চমকে যাবি !’
‘মজা না রে । সাফল্য পাব তো ?’ চিন্তিত মুখে জানতে চায় ইমরান । ‘এক জায়গা নিয়ে বেশি দিন পরে থাকতে ভালো লাগে না ।’
‘সব কিছু চলে এসেছে ।’ গৌরবের গর্বিত মুখ দেখে মনে হয় ও একাই এনেছে সব । ‘আর আজ আমাদের সাথে নতুন একজন যোগ দিয়েছেন । তুই চমকে যাবি !’
পাশের ঘর থেকে ম্যাপ হাতে বেড়িয়ে আসা মানুষটাকে দেখে আসলেই চমকে যায় ইমরান ।
এ তো বিজয়দা। মুখে চাপা দাঁড়ি নিয়ে হাতের ম্যাপটা গভীর মনোযোগে দেখছেন ।
কে বলবে এই মানুষটা গত একটা সপ্তাহ এলাকায় পাগলের মত ঘুরে বেড়িয়েছে ?
এ তো বিজয়দা। মুখে চাপা দাঁড়ি নিয়ে হাতের ম্যাপটা গভীর মনোযোগে দেখছেন ।
কে বলবে এই মানুষটা গত একটা সপ্তাহ এলাকায় পাগলের মত ঘুরে বেড়িয়েছে ?
‘মেজর খালেদ মোশাররফ ওয়াজ রাইট ।’ মুখ খোলেন বিজয়দা । ‘উই শূড কন্টিনিউ গেরিলা ওয়ারফেয়ার ।’
‘রাইট ।’ মাথা দোলায় রানা, ‘আজকে একটা মাজদা আছে আমাদের । টুডে উই উইল গো ফর হিট-এন্ড-রান ।’
‘বৃত্তাকারভাবে ।’ চশমা চোখের জুয়েল বলে । ইমরানের কলেজের মধ্যে এই ছেলেটা ফার্স্ট ছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ।
‘আই অ্যাগ্রি উইদ জুয়েল ।’ ইমরান একমত হয়, ‘আগে ওদের পেট্রোল কারগুলোর লোকসংখ্যা ছাড়াছাড়া ভাবে কিছুটা কমালে আজ রাতের অপারেশনে আমাদের ঝামেলা কম হবে ক্যাম্প আক্রমণে ।’
সবাই ডাইনিং টেবিলটায় বসে পড়ে ।
পরিকল্পনা চলছে একটা সফল আক্রমণের ।
‘রাইট ।’ মাথা দোলায় রানা, ‘আজকে একটা মাজদা আছে আমাদের । টুডে উই উইল গো ফর হিট-এন্ড-রান ।’
‘বৃত্তাকারভাবে ।’ চশমা চোখের জুয়েল বলে । ইমরানের কলেজের মধ্যে এই ছেলেটা ফার্স্ট ছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ।
‘আই অ্যাগ্রি উইদ জুয়েল ।’ ইমরান একমত হয়, ‘আগে ওদের পেট্রোল কারগুলোর লোকসংখ্যা ছাড়াছাড়া ভাবে কিছুটা কমালে আজ রাতের অপারেশনে আমাদের ঝামেলা কম হবে ক্যাম্প আক্রমণে ।’
সবাই ডাইনিং টেবিলটায় বসে পড়ে ।
পরিকল্পনা চলছে একটা সফল আক্রমণের ।
পাকিস্তানি আর্মি যা করেছে – তার কোন ক্ষমা নেই ।
একটা করে চাইনীজ সাব-মেশিনগান তুলে নেওয়ার সময় ইমরানের মনে হল ওর প্রতিটি রক্তকণা যেন টগবগ করে ফুটছে ।
তীব্র ঘৃণার দাবদাহ দুই চোখে ।
প্রচন্ড রাগে দুইপাশে অন্ধকার দেখে ও ।
একটা করে চাইনীজ সাব-মেশিনগান তুলে নেওয়ার সময় ইমরানের মনে হল ওর প্রতিটি রক্তকণা যেন টগবগ করে ফুটছে ।
তীব্র ঘৃণার দাবদাহ দুই চোখে ।
প্রচন্ড রাগে দুইপাশে অন্ধকার দেখে ও ।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিজয়দার চোখে মুখেও একই অনুভূতির প্রতিফলন দেখতে পায় ও ।
চারজন আস্তে করে উঠে পড়ে মাজদায় ।
বাকিরা এখানে থেকে যাবে ।
শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের আরেকটি অপারেশন ।
বাকিরা এখানে থেকে যাবে ।
শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের আরেকটি অপারেশন ।